শার্শা-বেনাপোলে ডেঙ্গুর উপদ্রব ঠেকাতে ইউএনও’র বিশেষ নির্দেশনা জারী

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ , ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 hour আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

সমগ্র দেশের ন্যায় যশোর জেলার শার্শা উপজেলায়ও বর্তমানে ডেঙ্গুর উপদ্রব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেঙ্গুর এই অবনতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

​আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ তাঁর কার্যালয়ে এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও কঠোর বার্তা প্রদান করেন।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মশা উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বসতবাড়ি ও এর আশপাশের আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ​ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামীতেও নিয়মিত মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানান ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ​ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ইউএনও বলেন,বাংলাদেশ বর্তমানে ডেঙ্গুর একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা বেশি। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৬০ জনের ওপরে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রায় ১৫০ জন স্কাউট এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ১২ জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা বেনাপোল, শার্শা, নাভারণ, বাগআঁচড়া সহ বিভিন্ন ফরোয়ার্ডিং এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এছাড়া স্কাউট ও অন্যান্য টিমগুলো ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককদের ও সাথে সমন্বয় করে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে ১০০০ স্যালাইন এবং ১০০টি কিট (অ্যান্টি-ডেঙ্গু আইজিএম এবং অন্য আরেকটি কিট) সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,কচুরিপানা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারি বরাদ্দ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বরাদ্দ আসার আগেই রোগীরা যাতে প্রপার সেবা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তা আজকে দুপুরের বা বিকালের মধ্যেই পৌঁছে যাবে।

বিভিন্ন এলাকায় কচুরিপানা অপসারণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা হয়েছে। নদী রক্ষা কমিটির মিটিংয়ে অভয়নগর বা মনিরামপুরে পরীক্ষামূলকভাবে কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে কচুরিপানা পরিষ্কারের চিন্তা করা হচ্ছে। এটি সফল হলে সব উপজেলায় তা চালু করা হবে।

হাওর এলাকা অত্যন্ত বড় হওয়ায় সেখানে ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর কিছু করা কঠিন, তাই এখানকার মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

হাওরের আশেপাশের বসতিগুলোতে টিম পাঠিয়ে স্থানীয়দের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ​হাওর এলাকায় মশার উপদ্রব রোধে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর