মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস,রোদ দেখা দেয়ায় স্বস্তি

প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ , ৮ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা আরো হ্রাস পেয়েছে। তবে দুপুর ১২টায় আকাশে সুর্য উঁকি দেয়ার কারনে ঠান্ডা কম অনুভুত হচ্ছে। যার কারনে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়া গত ১ জানুয়ারি সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি, ৩ জানুয়ারি ১২.২ ডিগিগ্র ৪ জানুয়ারি ৯.৫ ডিগ্রি, ৫ জানুয়ারি ১২.৫ ডিগ্রি ও ৬ জানুয়ারি ১৪.৫ ডিজিটাল রেকর্ড করা হয়েছিল।

গাছ-গাছারীর সবুজে ঘেরা ও চা বাগান অধ্যুীষত এলাকা হওয়া এখানে র্তীর শীত অনুভুত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডার কারনে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচন্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তীব্র শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম।

শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রিকশাচালক রমিজ মিয়া বলেন, ঠান্ডার কারনে হাঁটাচলা করা যায় না। কাজ করবো কিভাবে ? তাই জড়সড়ো হয়ে এখানেই আগুন জ্বালিয়ে বসে আছি।

গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম বলেন, দিনের বেলা যেমন -তেমন রাতে বেশী কষ্ট করতে হয়। ঘরে কম্বল নেই, খেতাও ঠিকমতো গায়ে দেওয়া যায় না।

চা বাগানের বাসিন্দা রমেশ উর্মী বলেন, ‘ঠন্ডায় হাড়কাঁপুনি শীত। তাই কয়েকজনকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে চা বাগানের নিম্ন আয়ের অনেকেই জানিয়েছেন সরকারীভাবে এখনো শীত বস্ত্র (কম্বল) পাননি।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। রোগীর ভিড় থাকছেই প্রতিদিন। এদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ।