এমপি রুমিনে”র অভিযোগ’ওসি বিরাট আ: লীগ” নিরাপত্তা’র নামে ওসি মবে’র অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ , ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 hours আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইল থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে আটটার দিকে কর্মী সমর্থন নিয়ে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় তিনি ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে উদ্দেশে করে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না দেওয়া এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাতে থানায় যান রুমিন ফারহানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি জানান, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে আনা হয়েছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসির রাজনৈতিক অতীত নিয়ে ওই মন্তব্য করেন।ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এমপি শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এবং একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি।

তিনি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে আসছেন। সে বলছে, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। লোকটাকে আমি কখনও দেখছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসারেরা ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনও প্রয়োজনই হয় না।

সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিছে। এটা তো ওনার শেখানো বিষয়।’ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘উনি বলছেন, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওর অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো।

উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন?’ পূজামণ্ডপ গুলোতে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ওসি বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। থানা এলাকার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা।

এ জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করতে পারেন। গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তার অনুসারীদের নিয়ে থানার কক্ষে এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন এবং থানার বাইরে মিছিল করেন।

সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনও সংগঠনের লোকজন ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান। তার দাবি, ওই সংগঠনের লোকজনকে গ্রেফতার না করার জন্য সংসদ সদস্য তাকে প্রায়ই চাপ দেন।

এ সময় জবাবে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেছেন, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আমরা সব জানি। এখন আসছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংগঠনের লোক চিনাইতে।ওসি বলেন, থানায় আসা অনেককেই তিনি চিনতে পারেননি। পরে তাদের পরিচয় জানা যেতে পারে।

থানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়টি তিনি নোট করে রেখেছেন বলেও জানান।এ সময় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। তাদের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে রাখার জন্য থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন ওসি।

এদিকে রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানকালে বাইরে তার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েক শ মানুষকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় থানা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মবে”র অভিযোগ তুলে।

সরাইল থানার (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, আমার মোবাইল চিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যারা ভিতরে ঢুকেছে সবাই উত্তেজনা আচরণ করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সরাইল উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এড. নুরুজ্জামান লস্কর তপু ফেসবুক কমেন্টে লেখেন। তুমি আছ না।ওরা কার সঙ্গে মব করেছে।

সরাইল থানায় করেছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উচিত উর্ধতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

কারণ পুরো ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।কিছু দূস্কৃতিকারী চাচ্ছে সরাইল অশান্ত করতে।সেই ফাঁদে সরাইল উপজেলা বিএনপি পরিবার পড়বে না।৫ ই আগস্টের আগে কয়জন হরতাল অবরোধে ছিল…?

৫ ই আগস্টের ফেইসবুকে বড় বড় কথা বলে বেড়ায়। বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মৈশান বলেন। রুমিন নিজে আওয়ামী লীগের এজেন্ট সে আওয়ামী লীগের গুন্ডা পান্ডা নিয়ে ভাঙচুর এর উদ্দেশ্যে মব সৃষ্টি করেছিল।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর