কেন্দুুয়ায় হত্যাকান্ডের জের,অর্ধশত বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ , ২১ জুন ২০২৪, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

নেত্রকোণার কেন্দুুয়ায় কাইয়ুম হত্যা মামলার আসামীদের ৪৮টি পরিবারের বসতঘরসহ ৬৪টি ঘর ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এঘটনাটি কেন্দুয়া উপজেলার ১০নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ঘটে।

সুত্র জানায়, বিষ্ণুপুর গ্রামে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গত ২৫ মে বিকালে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হয়ে আব্দুল কাইয়ুম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা একটি মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।

আব্দুল কাইয়ুম নিহত হওয়ার পর আসামী পক্ষের লোকজন চলে যায় আত্মগোপনে এই সুযোগে বাদী পক্ষের লোকজন হাদিস মিয়ার নেতৃত্বে আসামীদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর গরুছাগল, হাঁস মুরগী,নগদ টাকা,স্বর্ণালঙ্কার আসবাবপত্র লুটে নেয়। ওই লুটপাটের ঘটনায় গত ৯ জুন থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

বিঞ্চপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার বাদী হয়ে ৫৯ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বাদী দাবী করেন হামলাকারীরা ২ কোটি ৭৯ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়ে গেছে এবং ক্ষতির সাধন ২৮ লক্ষ টাকার মালামাল। এঘটনার পর গত ১১ জুন হত্যা মামলার আসামীরা হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহে আগাম জামিন পায়।

এ খবর পেয়ে হত্যা মামলার বাদী পক্ষে লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে গত ১২ জুন বিকাল থেকে শুরু করে ১৪ জুন পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ৪৮টি পরিবারের বসতঘরসহ অন্তত ৬৪টি ঘর ভাংচুর করেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খোকন মিয়ার বসতঘরসহ ৫টি ঘর, রুবেল মিয়ার বসতঘর,বাবুল গংদের বসতঘরসহ ৩টি ঘর ,সাইকুল ও আইতুলের যৌথ বসতঘরসহ গোয়ালঘর, মতি মিয়ার বসতঘর, কিবরিয়া মেম্বারে বসতঘর, রাজ্জাক মিয়ার বসতঘর,খালেক মিয়ার বসতঘর,মজিবুর রহমানের বসতঘরসহ গোয়ালঘর, জয়নাল মিয়ার বসতঘর, আবু সিদ্দিক বসতঘর ,ফজলু মিয়ার বসতঘর, হাসিম উদ্দিনের বসতঘরসহ ৩টি ঘর , কামরুল ইসলামের বসতঘরসহ ২টি ঘর, খায়রুল ইসলামের বসতঘর ,কবির মিয়ার বসতঘর, জামিল মিয়ার বসতঘর,জামাল মিয়ার একটি পোল্ট্রি ফার্মের ঘর,আবু তাহের সঞ্জু বসতঘরসহ ৩টি ঘর , আহমদ হোসেন বসতঘরসহ ৩টি ঘর, নুরুল ইসলামের বসতঘরসহ ৩টি ঘর ,ইয়াসিন মিয়ার বসতঘরসহ ৩টি ঘর, ওয়াদুদ মিয়ার বসতঘর, সুনু মিয়ার বসতঘর, মঞ্জু মিয়া বসতঘর,ইকবাল হোসেনের বসতঘর, বাচ্চু মিয়ার মনোহারী দোকান ঘর, আব্দুল লতিব মেম্বার ও আতিবর যৌথ বসতঘর,আল আমিন ও মিনারুল ইসলামের যৌথ বসতঘরসহ রান্নাঘর, কামরুল ইসলামের বসতঘর, হাদিস মিয়া বসতঘর, হোসেন মিয়ার বসতঘর,খালেক মিয়ার বসতঘরসহ ৩টি ঘর, বাবুল মিয়ার বসতঘর,আবুল মিয়ার বসতঘর,রিকন মিয়ার বসতঘর,সারোয়ার মিয়া বসতঘর, আজিজুল ও ফজলুল হকের বসতঘর, সাফাতুলের বসতঘর,তোফাজ্জল মিয়া বসতঘর,আহম্মদ মিয়ার বসতঘর।

ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল লতিব মেম্বার জানান, বাচ্চাদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র আমাদের দুইপক্ষের মারামারিতে কাইয়ুম নামে একজন আহত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে আমারা যে যেভাবে পারি আত্মগোপনে চলে যাই।

এই সুযোগে হাদিস মিয়া ও তার লোকজনের নেতৃত্বে ঘটনার দিন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালিয়ে কয়েকটি ঘর ভাংচুরসহ ৪৮টি পরিবারের নগদ টাকা,স্বর্ণালংকার, খাট,সুকেশ, হাড়িপাতিল, গরুছাগল,হাঁসমুরগীসহ বাড়িঘরের সমস্ত মালামাল লুটে নেয়।

এরপর ১১ জুন আমাদেরকে হাইকোটের আগাম জামিন দেওয়ার কথা শুনে হাদিস মিয়া ও হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে গত ১২ জুনের বিকাল থেকে শুরু করে ১৪ জুন পর্যন্ত ফের দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ৪৮টি পরিবারের বসতঘরসহ অন্তত ৬৪টি ঘর ভাংচুর করেছে তারা। আমরা জামিনে এলেও বাড়িঘর থাকার কোন ব্যবস্থাই রাখেনি হামলাকারীরা।

প্রতিটি পরিবারের বসতঘরের পাশাপাশি বাথরুম,টিউবওয়েল,জলমটর গুলোও তছনছ করেছে বলেও জানান তিনি। এদিকে হুমায়ুন কবির জানান,ঘটনার পর আমরা তো রোগী নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। নিজেও আহত হই। তারা নিজেরাই নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। ঘর ও আসবাবপত্রের ভাংচুর বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও জানান তিনি।

এব্যাপারে কেন্দুুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক পিপিএম বলেন,উভযপক্ষে মামলা হয়েছে। আর যাতে কোন সহিংস ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।