• দেশজুড়ে প্রধান সংবাদ
  • নিজের চিকিৎসা করাবেন, নাকি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেবেন—দিশেহারা দিনমজুর হাসানুজ্জামান

নিজের চিকিৎসা করাবেন, নাকি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেবেন—দিশেহারা দিনমজুর হাসানুজ্জামান

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ , ৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 hours আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের মোহাম্মাদ হাসানুজ্জামান (৩৩)। একসময় দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও মাকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হলেও পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা ছিল তাঁর। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর যেন থমকে গেছে তাঁর জীবন। এখন নিজের চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, পরিবারের পাঁচ সদস্যের মুখে খাবার তুলে দেওয়াও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন হাসানুজ্জামান। সংসারে উপার্জন করার মতো আর কেউ নেই। স্ত্রী, দুই অবুঝ সন্তান ও মাকে নিয়ে তাঁর ছোট্ট পরিবার। অথচ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিই এখন অসুস্থ ও কর্মহীন। ফলে পরিবারটির জীবনযাপন হয়ে পড়েছে অত্যন্ত কষ্টকর।

হাসানুজ্জামান, পিতা মৃত ইনছাব আলী এবং মাতা মোছাম্মাদ মরিয়ম বিবি। তাঁর চিকিৎসার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে।

যশোরের Scan Hospital & Diagnostic Center-এর ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ইকোকার্ডিওগ্রাম রিপোর্টে তাঁর হার্টের Ejection Fraction (EF) পাওয়া গেছে মাত্র ৪০ শতাংশ। সাধারণত স্বাভাবিক EF ৫৫ থেকে ৭০ শতাংশ। রিপোর্টে Ischemic Heart Disease (IHD), Regional Wall Motion Abnormality এবং Mild LV Dysfunction-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ হার্টের কিছু অংশ স্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হচ্ছে না এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতাও কমে গেছে।

এমন শারীরিক অবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে নিজের অসুস্থতা, অন্যদিকে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও মায়ের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে অসহায় হাসানুজ্জামান এখন অনেকটা নিরুপায়। পরিবারের জন্য তাঁর দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তাই তাঁকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে।

তাঁর ইচ্ছা, সুস্থ হয়ে আবারও কোনোভাবে উপার্জনের ব্যবস্থা করবেন। ভবিষ্যতে একটি মোটর ভ্যানের ব্যবস্থা করতে পারলে সেটি চালিয়ে পরিবারের জন্য জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সামর্থ্য তাঁর নেই।

এ অবস্থায় হৃদয়বান মানুষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

হাসানুজ্জামানের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। হয়তো কারও সামান্য সহযোগিতা তাঁর চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে, আবার কারও সম্মিলিত উদ্যোগে ফিরে আসতে পারে একটি অসহায় পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

আসুন, আমরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হাসানুজ্জামানের পাশে দাঁড়াই।

একজন অসুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করা মানে শুধু একজনকে বাঁচার সাহস দেওয়া নয়, বরং তাঁর অসহায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও মায়ের মুখে আশার আলো ফিরিয়ে দেওয়া।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা

রোগীর নাম: মোহাম্মাদ হাসানুজ্জামান গ্রাম: রুদ্রপুর, থানা: শার্শা, জেলা: যশোর।

নগদ/বিকাশ: ০১৩২৩-০২৪৩২২

আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার সামান্য সহায়তাও হতে পারে একটি অসহায় পরিবারের বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন।