কেন্দুয়ায় দুই মাংস ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদান

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 days আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরে মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুই মাংস ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পৌরশহরের সাউদপাড়া মোড়ের মাংস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম এবং কাঁচাবাজারের মাংস ব্যবসায়ী আবুল হাশেম। তাদের মধ্যে আমিনুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা এবং আবুল হাশেমকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

সম্প্রতি কেন্দুয়ায় কথিত মরা গরুর মাংস আমদানি ও বিক্রির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

মঙ্গলবার অভিযানের শুরুতে ইউএনও সানজিদা চৌধুরী পৌরশহরের সাউদপাড়া মোড়ে আমিনুল ইসলামের মাংসের দোকানে যান। তিনি সেখানে মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সতর্কতা দেওয়া হয়। এ সময় আলোচিত মাংস ব্যবসায়ী আরাধন মিয়াকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর কাঁচাবাজারে মাংস ব্যবসায়ী আবুল হাশেমের দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পশু জবাই ও মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৫ ও ৮ ধারার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পিএলও) ডা. মতিউর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে ইউএনও সানজিদা চৌধুরী বলেন, মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কেন্দুয়া বাজারের মাংস ব্যবসায়ী আরাধন মিয়া গৌরীপুর এলাকা থেকে স্বল্প মূল্যে মরা গরুর মাংস কিনে আনার অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ আমিনুল ইসলামের দোকানে পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর