এশিয়ান গেমসের রঙিন উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 hours আগে
সংগৃহীত ছবি।

সন্ধক্ষার আলো ফুরিয়ে আসছিল জাপানের নাগোয়ার আকাশে। পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামের একে একে সব আলো জ্বলে উঠতেই মঞ্চের পাশে বসে মনে হচ্ছিল, সামনে কেবল কোনো সাধারণ ক্রীড়ানুষ্ঠানের পর্দা উঠছে না, বরং আলো, সুর আর ছন্দে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে পুরো এশিয়া মহাদেশ।

চারপাশের গ্যালারিতে বসা হাজারো দর্শকের চোখ স্থির হয়ে ছিল মাঠের মাঝখানের বিশাল হৃদয়াকৃতির মঞ্চটির দিকে। সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের অপূর্ব এক মেলবন্ধনে এভাবেই শুরু হয় এবারের এশিয়ান গেমসের আনন্দময় ও বর্ণাঢ্য উদ্বোধন।

আয়োজক দেশ জাপান তাদের আধুনিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব এবং হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতির এক অনবদ্য মিশ্রণ ঘটিয়েছিল এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। মাঠের লেজার শো এবং ত্রিমাত্রিক প্রক্ষেপণ বা হোলোগ্রাফিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস ও কৃষ্টির নানা নিদর্শন। নাগোয়ার এই ক্রীড়াযজ্ঞে অংশ নেওয়া সকল দেশের অ্যাথলেটদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং বর্ণিল আতশবাজির রোমাঞ্চকর আলোয় আকাশ রাঙিয়ে গেমসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন আয়োজকরা।

এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদরা অংশ নিচ্ছেন। বিগত দিনে ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন রাজনৈতিক পালাবদল ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশের লাল-সবুজ পতাকা সমুন্নত রাখতে অ্যাথলেটরা নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন অনিয়ম ও রাজনৈতিককরণের শিকার হতে হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে দেশের খেলাধুলা নতুন এক গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই আনন্দঘন পরিবেশে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন, নাগোয়ার এশিয়ান গেমসের ময়দানে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা তাদের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।

সংস্কৃতির সেতু বন্ধন আর প্রযুক্তির উৎকর্ষে গেমসের পরবর্তী দিনগুলোতে মাঠের লড়াই আরও জমে উঠবে এবং এশিয়ার যুবসমাজ ক্রীড়ার মাধ্যমে এক সুতোয় আবদ্ধ হবে বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন