ভারপ্রাপ্তের ভারে ভারাক্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ , ২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 weeks আগে

স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের অভাব এবং শূন্য পদের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৪০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা ও দাপ্তরিক কাজের চাপে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, যা প্রাথমিক শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অনুমোদিত ১ হাজার ১০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৬৯৬ জন। ফলে ৪০৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নবীনগর উপজেলা। সেখানে ২১৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১২৯ জন, ফলে শূন্য রয়েছে ৯০টি পদ।

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ১২৯টি পদের মধ্যে ৭৫ জন কর্মরত থাকায় ৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে। সরাইল উপজেলায় ১২৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ৭৫ জন, শূন্য ৫১টি। কসবা উপজেলায় ১৬৩টি পদের বিপরীতে ১১৪ জন কর্মরত থাকায় ৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

বিজয়নগর উপজেলায় ১০০টি প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৫২ জন। সেখানে ৪৮টি পদ শূন্য। বাঞ্ছারামপুরে ১৩৯টি পদের মধ্যে ১০০ জন কর্মরত থাকায় শূন্য রয়েছে ৩৯টি পদ। নাসিরনগরে ১২৬টি পদের বিপরীতে ৯০ জন কর্মরত, ফলে ৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে আশুগঞ্জ উপজেলায় ৪৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৭ জন, ফলে ২২টি পদ শূন্য। আখাউড়া উপজেলায় ৫৪টি পদের মধ্যে ৩৪ জন কর্মরত থাকায় শূন্য রয়েছে ২০টি পদ। এসব বিদ্যালয়ে জ্যৈষ্ঠ সহকারি শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম তালশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জোনিয়া বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এমনিতেই আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক কম। এখন আমাদের স্কুলের ৫জন শিক্ষকের মধ্যে ২জন মাতৃকালীন ছুটিতে আছে। বাকি ৩জনের মধ্যে ১জন ভারপ্রাপ্ত। ফলে ৩২৪ জনেরও অধিক শিক্ষার্থীদের পরিচালনা করছেন মাত্র ২জন শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত সহ মোট ৩জন। এদিকে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ প্রশাসনিক দায়িত্ব, উপজেলা পর্যায়ে মাসিক মিটিং সহ নানাবিধ কারণে তার পক্ষে আর ক্লাস করানো সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে কসবা উপজেলার শ্যামবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম স্বপন বলেন, প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দিলে তাঁকে প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) বলা হয়।বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক( চলতি দায়িত্ব) দিয়ে কাজ চলছে। এদের সংখ্যা প্রচুর। কারণ সাবেক বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের উচ্চ আদালতে মামলার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি পাচ্ছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে লেখা হয়েছে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)। বর্তমানে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সরকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে আশা করছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ধীরগতির কারণে আমরা লক্ষ্য করছি, সরকারি শিক্ষকদের দাবি বিলম্বিত হচ্ছে।প্রকৃতপক্ষে এই প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) যাঁরা তাঁরা হচ্ছেন সহকারী শিক্ষক। তাঁরা সহকারী শিক্ষক স্কেলে বেতনও পাচ্ছেন। তবে তারা শুধুমাত্র মাসিক দেড় হাজার টাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাতা পান। দীর্ঘদিনের মামলার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিক ও এদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: শামসুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের যে ঘাটতি রয়েছে সেটি পূরণে পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলেই সব সংকট দূর হয়ে যাবে। তবে কবে নাগাদ হবে সেটি তিনি জানাতে পারেননি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর