• শীর্ষ সংবাদ সর্বশেষ
  • কমলগঞ্জে সড়ক সংস্কার কাজের কার্যাদেশের ২ বছরেও কাজ শুরু হয়নি!!মানুষদের দূর্ভোগ

কমলগঞ্জে সড়ক সংস্কার কাজের কার্যাদেশের ২ বছরেও কাজ শুরু হয়নি!!মানুষদের দূর্ভোগ

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ , ২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক নৈনারপার ভায়া কাঁঠালকান্দি সড়কের সংস্কারে কাজের কার্যাদেশ হওয়া ২ বছর পেরিয়ে গেলে ও এখন কাজ শুরুই হয়নি। ফলে সড়কটি ব্যবহারকারীরা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানাযায়, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ সড়কের অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মৌলভীবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি সড়কের টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

এর মধ্যে কমলগঞ্জের চৈত্রঘাট-নয়াবাজার ভায়া শহীদনগর এবং নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়ক দুটির সংস্কারে সমন্বিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।

ট্রেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় কুলাউড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. মুহিবুর রহমান ও আরএবিআরসি প্রাইভেট লিমিটেড। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল কার্যাদেশ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার মেয়াদ ছিল।

ঠিকাদার মুহিবুর রহমান চৈত্রঘাট-নয়াবাজার সড়কের কাজ সময়মতো শেষ করলেও নৈনারপার-ইসলামপুর সড়কের কাজ এখনো শুরুই করেননি।

টেন্ডার পাওয়ার পাঁচ মাস পরও কাজ শুরু না করায়, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দফতর থেকে ঠিকাদারকে তাগিদপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু লিখিত তাগিদ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও মাটি বের হয়ে পড়েছে। দুই বছর আগের ছোট গর্ত এখন বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্পের যাতায়াত সহ সড়কটি সীমান্ত এলাকার মানুষের মূল ভরসা।

নৈনারপারের বাসিন্দা শাব্বীর এলাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর আগে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা শুনে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার ও দপ্তরের গাফিলতিতে আজ ও সড়কের কাজ অনিশ্চিত।

কাঁঠালকান্দি গ্রামের অটোরিকশা চালান রহমত আলী বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি নষ্ট হয়, এছাড়া রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে এই রাস্তায় চলাচলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা আর এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।

নৈনারপার বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ। দুই বছর আগে সড়কটি যে ভংগুড় অবস্থা ছিল, বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। এখন পুরো রাস্তায়ই ভাঁঙাচোরা।

ঠিকাদার মুহিবুর রহমান বলেন, প্রথম সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়েছে। তবে নৈনারপার অংশের বিটুমিন ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং অফিসের কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে সরঞ্জাম পাঠিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম সড়কটির কাজ শুরু না করার কথা স্বীকার করে বলেন, অফিস থেকে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রুতই কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর