
প্রতিদিন ভোরে ঘর থেকে বের হন তারা। কখনও ঝড়-বৃষ্টি, কখনও কড়া রোদ মাথায় নিয়ে ছুটে যান প্রত্যন্ত গ্রামে। কাঁধে থাকে জীবন রক্ষাকারী টিকার বাক্স। শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছেন তারা। অথচ সেই কর্মীদেরই ১০ মাস ধরে নেই বেতন-ভাতা।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেবেন কীভাবে? সন্তানদের জন্য নতুন কাপড়ই বা কিনবেন কিভাবে?
এই হতাশা আর ক্ষোভ থেকেই ১০ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন টিকাদান কর্মসূচিতে নিয়োজিত ইপিআই পোর্টাররা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টায় শহরের কাউতলী এলাকায় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তারা সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপিও দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীদের চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ। কেউ বলছিলেন ধার-দেনার কথা, কেউ আবার পরিবার চালাতে হিমশিম খাওয়ার কথা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইপিআই পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামিম মিয়া বলেন,
“আমরা ১০ মাস ধরে বেতন পাই না। সংসার চালাতে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। বাজারে দেনা হয়ে গেছে। সামনে ঈদ— কিন্তু ঘরে খাবার নেই। সন্তানদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম বলেন,
“আমরা জীবন রক্ষাকারী টিকা গ্রামের পর গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। এত বছর কাজ করেও চাকরি স্থায়ী হয়নি। এখন বেতনও বন্ধ। আমরা খুব কষ্টে আছি।”
সহ-সভাপতি সুদন মিয়া চৌধুরী বলেন,
মেঘ-বৃষ্টি, ঝড়— কোনো কিছুই আমাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারেনি। কিন্তু আজ আমরা নিজেরাই অসহায়। পরিবার নিয়ে ঈদ করব কীভাবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।
বক্তারা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকারী ২৭ জন ইপিআই পোর্টার দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বারবার আবেদন করেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।
তারা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যখাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের চাকরির কোনো স্থায়িত্ব নেই। সামান্য বেতনের ওপর নির্ভর করে পরিবার চালাতে গিয়ে এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে জেলার সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়ার কাছে স্মারকলিপি দেন ইপিআই পোর্টাররা।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. নোমান মিয়া বলেন,
আমি জানি ইপিআই পোর্টাররা খুব কষ্টের মধ্যে আছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আশা করছি, ঈদের আগেই তারা অন্তত কিছু বকেয়া বেতন পাবেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি...
জাবি উপাচার্যের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
জাবি উপাচার্যের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধিদলের...
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী...
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৫৫ তম...
উখিয়ায় রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত
উখিয়ায় রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের পরিচয়...
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ইঙ্গিত: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কা
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ইঙ্গিত: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের...
ঢাকায় ছিনতাই ও অরাজকতা বেড়েছে: সাদিক কায়েম
ঢাকায় ছিনতাই ও অরাজকতা বেড়েছে: সাদিক...