কমলগঞ্জে বয়লার মুরগির দাম বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ , ২৩ মার্চ ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
প্রতিকী ছবি।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ছোপ-বড় সকল হাট বাজারের ব্রয়লার, সোনালি সহ সব ধরনের মুরগির দোকানে দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। ঈদের এই সময়ে বাজারে গরুর মাংসের দাম চড়া থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তিরা মুরগি কিনতে ঝুঁকে ছিলেন। তবে এখন মুরগির দাম ও বেড়ে যাওয়ায় নিন্ম ও মধ্যবিত্তরা ও হিমশিম খাচ্ছেন।

রমজানের শেষ সময়ে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও সোনালি ২৩০-২৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। রমজান মাসে কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধির পর সবশেষে ঈদের আগের দিন থেকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২৪০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা ও লাল পাকিস্তানি মুরগি প্রতিটি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে কমলগঞ্জে ভানুগাছ,মুন্সিবাজার,আদমপুর বাজার ও শমসেরনগর মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা মুরগির দাম শুনে মুখ কালো করে ফেলছেন। ঈদের সময় মুরগির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সব ধরনের মুরগির দাম বাড়িয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

রমজান মাসের প্রথম দিকে যেখানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন ঈদের পর এখন ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি মুরগিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুরগি কিনতে আসা আছমা আক্তার বলেন, বাসায় মেহমান এসেছেন। তাদের জন্য বাজারে মুরগি কিনতে এসে অবাক হয়ে গেছি। একটা ২ কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগির দাম ৪৪০ টাকা। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের মাংস খাওয়ার ভাগ্য মনে হয় হবে না।

অপর ক্রেতা রাসেল মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ।দিনমজুরের কাজ করি। ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসে দাম দেখে অবাক হয়েছি। বেশি দামে মুরগি বিক্রির পরেও বিক্রেতারা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ওজনে কম দেন আবার মুরগির ভেতরে পানি ঢুকিয়ে রাখেন।

মুরগি ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা বেশি দামে মুরগি ক্রয় করেছি। এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদেরকে বলা হয়েছে, খামারে মুরগি নেই। ব্রয়লার মুরগি কিছু পাওয়া গেলেও সোনালির সংকট দেখানো হচ্ছে।

খুচরা মুরগি ব্যবসায়ী সাহান মিয়া বলেন, মুরগির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এতেই সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট থাকায় দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুরগির দাম বৃদ্ধি করিনি। মূল জায়গায় দাম বাড়ানো হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, রমজান মাস থেকে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম ভাবে সংকট দেখিয়ে ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির দাম বাড়িয়েছেন।

মুরগি যেখান থেকে পাইকারি বিক্রি হয়, সেখানে দাম বাড়ানো হচ্ছে কৌশলে।

ঈদের দিন থেকে দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছি। যারা বেশি দামে মুরগি বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।