নালিতাবাড়ী পৌর শহরে মোবাইল কোর্ট ঘিরে উত্তেজনা, ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

পুলক রায়,নালিতাবাড়ী,শেরপুরঃ শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় যানজট নিরসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তার জায়গা দখল করে রাখা মালামাল জব্দ করা হলে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সোমবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাজার এলাকায় যানজট বৃদ্ধি ও রাস্তা দখলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে কয়েকটি দোকানের সামনে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে রাখা পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়। এ সময় বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ব্যবসায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে দোকানের সীমানার ভেতরে থাকা মালামালও জব্দ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পণ্য রেখেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তা অগ্রাহ্য করে মালামাল গাড়িতে তুলে নেয়। তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু পণ্য ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, জনস্বার্থে যানজট নিরসন ও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, “রাস্তার ওপর অবৈধভাবে রাখা মালামাল জব্দ করা হচ্ছিল। এ সময় সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন দলবল নিয়ে এসে অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান এমপি’র অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। এর কয়েকদিন আগেও আমি এবং ওসি মিলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছিলাম।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তার অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের নামে দোকানের ভেতরের মালামালও জব্দ করা হচ্ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় কিছু বহিরাগত ব্যক্তি মালামাল উঠাতে সহায়তা করছিলেন, যারা প্রশাসনের নিয়মিত স্টাফ নন।

এছাড়াও তিনি মাইকিং করে আগে বিষয়টি অবগত না করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছিলো এতে কিছু গরীব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো।

পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।