চায়ের নিলামবাজারে ন্যাশনাল টি কোম্পানির বিক্রির বাজিমাত

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ , ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) পরিচালিত ১৩টি বাগানে সংকট, প্রতিকূলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক অসন্তোষের পর ও চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের নিলামবাজারে চায়ের রেকর্ড পরিমান বিক্রিতে বাজিমাত করেছে। কোম্পানির শত বছরের ইতিহাসে এবারই পরপর দুই নিলামে সর্বোচ্চ বিক্রির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার ( ১১ ডিসেম্বর) বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করেছেন ন্যাশনাল টি কোম্পানির আওতাধিন মাধবপুর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক দীপন সিনহা।

তিনি জানান,গত ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নিলামবাজারের ৩০ নম্বর নিলামে এনটিসির বাগানগুলোর উৎপাদিত চা প্রায় ৪ কোটি টাকার সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হয়। এর পরের ৩১ নম্বর নিলামেও বিক্রি বেড়ে প্রায় ৬ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছায়। শুধু দুই নিলামেই প্রায় ১০ কোটি টাকার চা বিক্রি হওয়ায় সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির চা বাগানগুলি পূর্বের লোকসানের সম্মুখীনের পর এবার লাভজনক অবস্থানে ফিরে ফিরে এসছে।

যা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রীয় চা খাতকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়েই এই সাফল্য এসেছে।

সুত্রটি আরো জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার পরিচালিত এনটিসি বাগানগুলোতে গুণগতমান নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, মদনমোহন পুর,পাত্রখোলা, কুরমা,চাম্পারায়,বিজয়া,প্রেমনগর,লাক্কারতুরা,তেলিয়াপাড়া, জগদীশপুর, চন্ডী,পারকুলসহ ১৩টি বাগানে জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করার কারণে খরা বা আবহাওয়াজনিত বৈরি পরিস্থিতিতেও উৎপাদন ব্যাহত হয়নি।

বাগান সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকদের কঠোরভাবে ‘দুটি কুঁড়ি ও একটি পাতা’ নীতি অনুসরণ করে পাতা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কাঁচা পাতা সংগ্রহের মান উন্নত হওয়ায় প্রক্রিয়াজাত করণের পর চায়ের রং, স্বাদ ও ঘনত্বে দৃশ্যমান উন্নতি হয়। ফলশ্রæতিতে নিলামবাজারে এনটিসির চায়ের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেড়েছে।

মাধবপুর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক দীপন সিনহা বলেন, এনটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা, নিয়মিত মনিটরিং এবং মাঠ পর্যায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মানসম্মত চা উৎপাদন ধরে রাখতে পেরেছি। আগামীতে বাজার অনুকূলে থাকলে ন্যাশনাল টি কোম্পানির বাগানগুলো বিদেশেও মানসম্পন্ন চা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

এনটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানি সাম্প্রতিক বছর গুলোতে আর্থিক সংকটে ছিল। ২০২৩ সালে ন্যাশনাল টি কোম্পানিটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে জেড ক্যাটাগড়িতে নেমে যায়।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এইচ এস এম জিয়াউল আহসান স্যারের নির্দেশে প্রতিটি চা বাগানে ব্যবস্থাপক স্টাফ ও চা শ্রমিকরা চা বাগানে মনোযোগ দিয়েছে । কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় হ্রাস নতুন বাজার অনুসন্ধান,পণ্যের মান উন্নয়নে নজর দিয়েছি। কোম্পানির নিজস্ব চা বাগানে চায়ের মান ধরে রাখতে কঠোর ছিলাম।

প্রতিটি বাগানে জৈবসার, সেচ ,মানসম্মত কাঁচা পাতা সংগ্রহ নিশ্চিত করায় উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নিলামবাজারে যে আশাব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উৎসাহ দেবে। বাজার চাঙ্গা থাকলে আগামী মৌসুমে ও উৎপাদন, বিক্রি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্নতি হবে।