ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা দিলেন সরাইল শিক্ষক পরিবার

প্রকাশিত: ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ , ৭ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইনে’র বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা পরিবার।

বৃহস্পতিবার ( ৬ নভেম্বর ) বিকেলে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতিও সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী’র
সভাপতিত্বে এবং সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার বিদায়ী ইউএনও’র কর্মকালের স্মৃতিচারণ সহ নিজেদের অনুভুতি ব্যাক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, কালিকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মানিক, সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার,অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শেখ সাদী, কুট্টাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.খোরশেদ আলম, সরাইল উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাধারণ সম্পাদক মো. তাসলিম উদ্দিন, সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গাজী মাজীদ প্রমুখ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ বক্তব্যে বলেন, ইউএনও মো. মোশারফ হোসাইনে’র মতো এমন ভালো মানুষ একটি উপজেলায যত বেশী থাকবে ততো সমাজ ও দেশ ভালো থাকবে। এই ইউএনও সবসময কর্মচাঞ্চল্য ছিলেন।

তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতির দায়িত্ব নেন ইউএনও মহোদয়। পাবলিক সভাপতির চেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা সভাপতি হওয়ায় আমরা খুব শান্তি পেয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একজন ভালো অফিসারকে বিদায় দিচ্ছি। আশা করি তাঁর কর্মজীবনে প্রথম ভালো লাগা থাকবে সরাইল উপজেলা।

বিদায়ী ইউএনও মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সরাইল আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। অফিসিয়াল কাজের বাইরেও আমি মানুষের সেবার জন্য কাজ করেছি। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, শিক্ষকরা হলেন জাতির কান্ডারি, যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন এবং সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ও জাতীয় উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা অপরিহার্য। শিক্ষকরা নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক, তাই তাদের সম্মান করা মানে সমাজের নৈতিক মূল্যবোধকে সম্মান করা।তিনি আরও বলেন, যে সমাজে শিক্ষক অবহেলিত, সেখানে উন্নয়ন আশা করা যায় না কারণ শিক্ষকরাই হচ্ছেন সেই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মূল কারিগর।

আমাদের সবারই নৈতিক দায়িত্ব হলো শিক্ষকদের সম্মান করা। আমার দায়িত্ব কালীন যতটুকু আমি পেরেছি শিক্ষকদেরকে সম্মান করার চেষ্টা করেছি। আপনারা সবাই ভাল থাকবেন।তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আবেগ-আপ্লুত হয়ে বলেন, প্রতিটি কর্মে প্রতিক্ষনে সরাইলের কথা মনে পড়বে। ‘যেখানেই থাকি সরাইলের মানুষের কথা কখনো ভুলতে পারবো না’।

নিজের বিদায়ী বক্তব্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মো. মোশারফ হোসাইন। তিনি বলেন, সরাইল শুধু আমার কর্মক্ষেত্র ছিল না, ছিল আমার ভালোবাসার স্থান। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা আমার জীবনের চিরস্মরণীয় সম্পদ হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল করিম।অনুষ্ঠানের প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত করেন, মো. আব্বাস আলী।