
মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): সরাইল পরগনা ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি প্রাচীন জনপদ, যা মধ্যযুগে < ঈসা খাঁর রাজধানী ছিল এবং মোগল ও সুলতানী আমলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা প্রাচীন বাংলার < সমতট জনপদের অংশ ছিল এবং কালের বিবর্তনে এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি অংশে পরিণত হয়েছে। ইতিহাস আর ঐতিহ্য ঘাটলে দেখা যায়।
শের শাহের সময়কালে পরগনা ব্যবস্থার প্রচলন হয় এবং সরাইল পরগনা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এই ইতিহাস ঐতিহ্যের জনপথ কে গ্রাম্য দাঙ্গাবাজরা কলঙ্কিত করছে বলে মনে করেন এলাকা সুধীমহল। কয়েকটি গ্রামের গোষ্টিগত কলহ, ঝগড়া বা দাঙ্গা। কোন না কোনভাবে সরাইলে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের বা গ্রামে ঝগড়ার খবর পাওয়া যায়।
গণমাধ্যমে দাঙ্গার খবর ভাইরাল হয়ে প্রচার হয়। যা এখানকার সুশীল এবং ভদ্র সমাজকে কাপন ধরেছে। সরাইলের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় এবং এই দাঙ্গার নিরসনে এলাকার মানুষের এখন কি করা উচিত। কখনো বাড়ির সীমানা নিয়ে কখনো জায়গা সম্পত্তি নিয়ে। কখনো গোষ্ঠী আবার গ্রামে গ্রামে বাড়ির সিমানা, গাড়ি ভাড়া, বিভিন্ন অজুহাতের দাঙ্গা নামে বসত বাড়ি ঘর লুটতরাজ, বৃদ্ধা ও শিশু বাচ্চাসহ রক্ষা পায়না এলাকায় নিরপরাধ লোকজনসহ আহত হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দাঙ্গার পরে মাঠ পর্যায়ে থেকে চিত্র উঠেছে এলাকার নিরপরাধ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসবের কারণে তারা হারিয়েছে ঘরবাড়ি লুট হচ্ছে অর্থ সম্পদ। অনেকে বলেছেন এলাকার ঝগড়ার জন্য দায়ী এলাকার কিছু সর্দার মাতব্বররা। তারা শকুনি মামার মত অর্থ লুটে হাঁটছে সাধারণ মানুষের। দিচ্ছে দু’পক্ষেই উস্কানি। কোন এলাকায় দাঙ্গা হলে তাদের পকেট ভারি হয়ে যায়। একদল তাদেরকে ইশারা করে কোর্টে আরেক দল ইশারা করে তাদেরকে থানায়। ঝগড়ার কারণে এলাকায় হচ্ছে খুন হারাপী এবং মাডারের মতো ঘটনা। মামলায় হইরানি হচ্ছেন গ্রামের কিছু নিরহ মানুষ। সুশীল এবং ভদ্র সমাজ উদ্বিগ্ন এর শেষ কোথায়।
মো. রুবেল মিয়া বলেন.শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে উস্কানিদাতা দের কে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। মো. মনিরুল হক বলেন,পরিপূর্ণ একটি তদন্ত করা দরকার। কাদের দ্বারা এ গোষ্ঠি গত ঝগড়া সৃষ্টি হয়। মো. পারভেজ মিয়া বলেন,শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে উস্কানিদাতা দের কে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সরাইল উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি সিনিয়র সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, মদদদাতা যারা তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন,এর জন্য আমাদের সমাজ দায়ী, কারন ঝগড়া হওয়ার সাথে সাথে ঝগড়া মিমাংসা করে দেই,প্রত্যেকটি ঝগড়ায় একটি করে পুলিশ বাদী হেভিওয়েট মামলা হত,পুরা বংশের লোক কোর্ট গিয়ে গিয়ে হাজিরা দিতে হত। তবে ঝগড়া কমে যেত।
সমাজ সেবক মো. মাহবুবুর রহমান বকুল মিয়া বলেন, দাঙ্গা নিরসন করতে হলে সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজপতিরা সমাজে সঠিকভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। যেকোনো দাঙ্গার পিছনে এলাকার কিছু মানুষের মদদতদাতা থাকে। প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনলে সমাজে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটবে না।
দাঙ্গার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী মো. নুরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, প্রত্যেকটি এলাকায় কিছু দাঙ্গাবাজ চিহ্নিত রয়েছে। তারা কোন দাঙ্গা সংগঠিত হলে উস্কানি দিয়ে এই দাঙ্গার সাথে অংশ নিয়ে লুটতরাজে লিপ্ত হয়। তিনি বলেন দাঙ্গা নির্মূল করতে হলে, এলাকার জন প্রতিনিধিরা তারা তাদের শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ, এলাকায় দাঙ্গা উস্কানি দাতা গ্রাম্য কিছু সালিশ কারকদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আইনজীবী বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যদি সঠিক ভূমিকা রাখে তাহলে দাঙ্গা নির্মূল করা সম্ভব।উল্লেখ্য তাঁকে যে,
শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঝগড়ার আবার আজ সরাইলে শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।সরাইল উপজেলার শাহাজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মাগুরহাটি এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেনা বাহিনী ও পুলিশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রনে আসে।সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

৫৮জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে এক’শো ৫০ জনকে সরাইল থানা পুলিশ সুত্রে জানান। আজকের ঘটনা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কতজন গ্রেফতার হয়েছে জানা যায়নি।তথ্য বলছে। সরাইলে সম্প্রতি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিক গোষ্ঠীগত ঝগড়া হয়েছে, বিশেষ করে ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, এবং ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে; এতে উভয় পক্ষেই অনেকে আহত হয়েছেন এবং বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এছাড়াও, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে শিশুদের ঝগড়া থেকে বড়দের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল, যা মূলত সম্পত্তি বা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরেই ঘটে থাকে। এই জনপদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সুনাম রক্ষায়। গ্রাম্য ঝগড়া নিরসনে প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...