সরাইলের দাঙ্গা আবার চাঙ্গা?বাড়ি ঘরে লুটতরাজ” মামলায় ৫৮ জন আসামী গ্রেপ্তার ৫ জন

প্রকাশিত: ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ , ১৭ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মোঃ তাসলিম সরাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ কখনো দু গোষ্ঠী আবার গ্রামে গ্রামে বাড়ির সিমানা, গাড়ি ভাড়া, প্রেম বিষয়ী ও বিভিন্ন অজুহাতে, ঈদ বা মৌসুমি দাঙ্গা নামে বসত বাড়ি ঘর লুটতরাজ, বৃদ্ধা ও শিশু বাচ্চাসহ রক্ষা পায়না এলাকায় নিরপরাধ লোকজনসহ আহত হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।এদিকে গতকালের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

৫৮জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে এক’শো ৫০ জনকে সরাইল থানা পুলিশ সুত্রে জানান।এলাকার সুধীমহলের ভাষ্যমতে, এ দাঙ্গার জন্য সরাইলে ঐতিহ্য আর ইতিহাস কলঙ্কীত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। সরাইল উপজেলা সকল অর্জন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই দাঙ্গার প্রভাবে। কিন্তু কোন ভাবেই দাঙ্গা রোধ করা যাচ্ছে না।

দাঙ্গা নিরসনে প্রশাসন সহ এলাকার সুধীজন এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। গতকাল শনিবার (১৫ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।শনিবার সকাল ১০ টা থেকে সরাইল উপজেলার শাহাজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মাগুরহাটি এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত সহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরকরা হয়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে। আজ সরেজমিনে জানা যায়,দেওড়া গ্রামের মাগুরহাটি গ্রামের একটি জায়গা নিয়ে স্থানীয় দানা মিয়া ও একই গোষ্ঠীর শিপন মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল । এনিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে শনিবার সকালে ফের উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ জন লোক আহত হয়।

আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দাঙ্গা বাজদের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রন করে সরাইল থানা পুলিশ।শারমিন বেগম বলেন, তারা আমার বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। ঘরের ভিতরে আসবাবপত্র ছিল এবং আমার আলমারিতে অনেক অর্থ রাখা হয়েছিল সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে।

আমি এই হামলার বিচার চাই। এলাকার সর্দার শওকত মিয়া বলেন, এরা দুই ভাইয়ের মধ্যে একটি জায়গা নিয়ে অনেকদিন ধরে বিবাদ চলছে। কিছুদিন হয় গ্রামের মানুষ সবাই মিলে এই বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছে। গতকালকে আবার এই জায়গা নিয়ে তারা দুই পক্ষ ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আহত হয়েছে এবং বাড়িঘর লুটতরাজ করেছে।

ঝরনা বেগম বলেন, আমার দুইটা ঘর একবারে ভেঙ্গে দিয়েছে। ঘর থেকে ফ্রিজ বের করে ভেঙ্গে কি অবস্থা করেছে। আমরা এইসবের বিচার চাই। আবুল হোসেন বলেন, শিপন মিয়া দানা মিয়ার জায়গা দখল করে রেখেছে। এই নিয়া ঝগড়ার হয় কয়েকদিন পরপরই। বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটতরাজ করা হয়। এর সঠিক তদন্ত করে আমরা বিচার চাই। মরিয়ম আক্তার বলেন, এ ঘর দুয়ার ভাঙ্গা দেখতেছি তবে। এই মাল শুনেছি আগে সরিয়ে ফেলেছে।

লুটতরাজের বিষয়ে আলিমা বলেন, আমার স্বামী মিলে কাজ করেন, আমার ঘরে একটা পালং আরেক’টা আলমারি ছিল। তারা এসে কিভাবে ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে রেখেছে। আমার ঘরে আর কিছুই রইল না সব ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ কারো কাছে বিচার পাই না। টাকা নাই বলে কোন জায়গায় আমাদের বিচার পাই না।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ৫৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে ১-শত ৫০জন অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.আবুবকর সরকার বলেন, ঝগড়া নিরসনে সরাইল থানা পুলিশ কাজ করছে। পক্ষরা ঝগড়াতে লিপ্ত না হয়ে। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। ইউএনও বলেন, সবাই যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।