শেরপুরে জামাতের জনসংযোগে হামলার ঘটনায় আহত-১০ : রাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শহর

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ , ২৫ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মোঃ আবু হানিফ, শেরপুর: শেরপুর সদরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলামের গণসংযোগে সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‎এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০জন। স্থানীয়দের অভিযোগ জামাত লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় ঢুকলে এলাকাবাসীর সাথে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শেরপুর জেলা শহর। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশ করে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সদরের ১০নং চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী।

এর আগে হামলায় আহত হন ইসলামী ছাত্রশিবির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপন, পৌরসভা ওয়ার্ড সভাপতি রাকিবসহ অন্তত ১০ জন। পরে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, ‎ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর হাফিজুর রহমানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় জামাত নেতারা এ ঘটনার জন্য বিএনপির সমর্থককারীদের দায়ী করেন। অপরদিকে বিএনপি কোন নেতা কর্মী বা সমর্থক এ ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন বিএনপির জেলার নেতারা।

জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজকে চরপক্ষীমারী ইউনিয়নে গণসংযোগ ছিলো। সেই অনুযায়ী জামায়াতের নেতাকর্মীরা ডাকপাড়া গেলে তাদের উপর অতর্কিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয় লোকজন হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০জন আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর এ হামলা চালিয়েছে।

হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে রাজনৈতিক সহযাত্রী ছিল, কখনোই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। তবে, আজকের ঘটনাটি তাদের মর্মাহত করেছে। কাজেই হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য বিএনপির প্রতি আহবান জানান এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে জামায়াত শিবির বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে। এরই ধারাবাহিক ভাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারনার নামে জামায়াত লাঠিসোঁটা নিয়ে ধর্মের কথা বলে প্রচারণা করার সময়, হয়তো এলাকার সাধারণ লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। এটাকে হামলা বলা উচিত হবে না। এছাড়া বিএনপি বা তার অঙ্গ সহযোগী কোন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক হামলা করেনি।

স্থানীয় লোকজন তাদের ফিরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারা হামলার কথা বলে বেড়াচ্ছেন এবং বিএনপির উপর দায় চাপাচ্ছেন। এটা রাজনীতির মাঠে উচিত না। প্রকৃত পক্ষে এ ঘটনার বিএনপি বা অঙ্গ দলের কেউই জড়িত নয়।

রাতে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির আহ্বায়ক। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন যদি আমাদের দলের কাউকে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ করতে পারে তাহলে তার বিরোদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়দুল আলম বলেন, এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।