ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর হাজী আলম মিয়া হত্যা রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

আমিনুল ইসলাম আহাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় আলোচিত হাজী আলম মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে— ভিকটিমের একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসানই নিজের বাবাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আদালতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে নাসিরনগরের ফান্দাউক মুন্সিপাড়া গ্রামের হাজী আলম মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের ছেলে মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা টিনের চালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে তার বাবাকে হত্যা করে এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। সন্দেহভাজন হিসেবে তিনি বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা ও তার পূর্বের স্বামী মমিনকে দায়ী করেন।

তবে ঘটনার শুরু থেকেই তদন্তে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। তদন্তে বেরিয়ে আসে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে সম্পদ লিখে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে ছেলে মাহমুদুল ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মামলার এজাহার বিলম্বে দায়ের করা এবং সাজানো চুরির গল্প আসল রহস্য আড়াল করার অপচেষ্টা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানায়, আসামি মাহমুদুল হাসান ঘটনার দিন রাতে সিলেটে যাওয়ার নাটক সাজিয়ে ঘরের পেছনের দরজা খোলা রেখে যায়। পরে রাতে নিজেই ফিরে এসে মাচার ওপর লুকিয়ে থাকে। বাবাকে ফোনে ডেকে বাসায় ফিরিয়ে আনার পর রাত আড়াইটার দিকে লোহার পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর পাইপটি পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে আসামি মাহমুদুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর সকালে হত্যার অস্ত্র লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল আলমের আদালতে হাজির করলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ বেলাল উদ্দিন জানান, ভিকটিমকে হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্পত্তির লোভ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, “ঘটনার শুরু থেকে মামলাটি চাঞ্চল্যকর ছিল। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”