সরাইলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নানা অভিযোগ, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহ্ণ , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): দুপুর ১২টা বাজতে কিছুটা বাকি। বড্ডাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটকে কয়েকটি মেয়েশিশু অপেক্ষা করছে; সঙ্গে দু-একজন অভিভাবক। ১২টায় ক্লাস আছে। নতুন ভবনের কাজ চলছে পাশে পুরানো বিল্ডিং এ দুটি রুম। শিক্ষার্থীরা এলোপাতাড়ি দৌড়াদৌড়ি করছে। এই দুটি রুমে নেয়া হচ্ছে তাদের পাঠদান।

কয়েকজন শিক্ষিকা তাদের রুমে বসা। এভাবেই চলছে বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। উপজেলার বাকি স্কুলের ভবনগুলোর কথা যেন-!ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কর্তৃক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও প্রধান শিক্ষকের অফিসকক্ষ নির্মাণে নানা অভিযোগ উঠেছে ও ধীরগতির কারণে চরম বিপাকে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বছরের পর বছর পার হলেও নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সরাইল উপজেলা এলজিইডি এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প, ১ম পর্যায়।চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এবং জিএসপির শুরু হওয়া বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।

উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিরিক্ত শ্রেণীকক্ষ নির্মাণে অফিস সূত্রে জানাযায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ সর্বনিম্ন ২৫% থেকে আবার কিছু বিদ্যালয় ৯৫% কাজ শেষ পর্যায়ে। বড্ডাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে কাজের ছবি দেওয়া আছে।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় কয়েক বার নির্মাণের সময়সীমা বাড়িয়েছে এলজিইডি বিভাগ।চাহিদাভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প হলো বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি প্রকল্প।

প্রকল্প পরিচালক (উপ সচিব) মোহাম্মদ আলমগীর খন্দকার এর প্রধান অতিথি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সভাপতিত্ব গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে সরাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হল রুমে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এজন্য উপজেলায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যেই সরকারের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, কক্ষসংখ্যা, অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।সরাইল উপজেলা দুই প্রকল্পে ৫৮টি নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এরমধ্যে ৩৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মিত নতুন ভবনের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা যায় উপজেলা এনজিইডি অফিস সূত্র।

বড্ডাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিত্রা রানী তলাপাত্র বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে ধীরগতির কারণে পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকট যে ভুবনে আমরা ক্লাস নিচ্ছি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা হলে তারা জানান , ‘ অনেক ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে কয়েকটি ভবনের ইট গাঁথুনির কাজ শেষ হয়েছে।

আবার কোন বিল্ডিং এর রং করা বাকি রয়েছে। অনেকে বর্ষার অজুহাত দেখিয়ে বলেন, বর্ষার জন্য কাজে দেরি হচ্ছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ আহমেদ বলেন, ‘নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগের কোনও অন্ত নেই।স্বস্ব বিদ্যালয় গুলোর কাজের বর্তমান পরিস্থিতি আমি আমার ঊর্ধ্বতনকে জানিয়েছি।

যিনি নবনির্মিত বিল্ডিং গুলি কাজের দেখাশুনা করছেন সরাইল উপজেলা এলজিইডি উপ- সহকারী প্রকৌশলী মো.আব্দুর রহিম বলেন, নবনির্মিত কয়েকটি ভবন ইতোমধ্যে আমরা হস্তান্তর করেছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে এবং সেগুলো হস্তান্তর করতে পারবো।’

সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।