• জাতীয় শীর্ষ সংবাদ
  • “বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ” এর সমাধিতে শার্শা প্রশাসনের পুস্পস্তবক অর্পণ

“বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ” এর সমাধিতে শার্শা প্রশাসনের পুস্পস্তবক অর্পণ

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ-১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের আত্মাহুতি দিয়ে বীর শ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্ত শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর ৫৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নে অবস্থিত মরহুমের সমাধিতে শার্শা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও কবর জিয়ারত করা হয়।

শুক্রবার(৫সেপ্টেম্বর) সকালে শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ডা.কাজী নাজিব হাসান এর নেতৃত্বে শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় শার্শা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল আলীম। এ ছাড়াও সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ সহ ঐ এলাকার সাধারণ মানুষ। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে কবর জিয়ারত এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ -এঁর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূব মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী নড়াইল জেলার নবগঙ্গা চিত্রা নদীর পাড়ে গহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ কবেন। তাঁর পিতার নাম মৃত আমানত শেখ এবং মাতার নাম মৃত জেন্নাত। খানম। তিনি স্থানীয় বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।

১৯৫৯ সালের ১৮ মার্চ তারিখে নুর মোহাম্মদ শেখ তৎকালীন ইপিআর এ যোগদান করেন এবং প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি ১৯৫৯ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর সেক্টরে বদলী হন। সেখান থেকে ১৯৭০ সালের ১ জুলাই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বদলী হরে আসেন। ১৯৭১ সাল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ যশোর ৮নং সেক্টরের অধীনস্থ ৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নে (ই পি আর এর সাবেক ৪র্থ উইং) বাঙালী সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানিতে নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যোগদান করেন।

সেদিন ছিল ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সাল। তিনি গোয়ালহাটি গ্রামে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে তার সাথী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এবং ছুটিপুর পাক হানাদার বাহিনীর ঘাটিতে আঘাত হানেন। সেদিন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ থেকে ঘুবপথে তিনদিক অগ্রসর হয়ে তিনি এবং তাঁর সহযোদ্ধারা তুমুল লড়াই করেছিলেন। ঐ যুদ্ধে একটি এল এম জি দিযে যুদ্ধ করেছিলেন নানু মিয়া। যুদ্ধ করতে করতে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে মারাত্বকভাবে আহত হন।

নানু মিয়া ঠিক ঐ সমযে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ তার পাশে থেকে যুদ্ধ করছিলেন। নানু মিয়া আহত হওয়ার সাথে সাথে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ, নানু মিয়াকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন। তিনি ঐ এল এম জি নিযে যুদ্ধ করতে থাকেন।

তুমুল যুদ্ধের মধ্যে এক পর্যায়ে শত্রুপক্ষের মর্টার শেল এর আঘাতে নূব মোহাম্মদ মারাত্বকভাবে আহত হন, মৃত্যু আসন্ন জেনে তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেন এবং আহত সিপাহী নানু মিয়াসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন।

তিনি একটি ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেন। কিছু সময় পরেই তার অন্যান্য যুদ্ধরত সাথী ভাইয়েরা ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদেব মৃত দেহ দেখতে পান। পাক হানাদার বাহিনীব বুলেটে তার সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। বেয়োনেট দ্বারা তাঁর দুটি চোখ উপড়ে ফেলেছিল শত্রুপক্ষের পাক হানাদার বাহিনী।

ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মাদ শেখ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে সর্বোচ্চ স্থান করে সর্বোচ্চ সম্মানে বাঙালীকে প্রতিষ্ঠিত করে যাওয়ার জন্য সেদিন যে অসাধারণ শৌর্যবীর্য, কর্তব্য নিষ্ঠা এবং তার সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যে ভালবাসা প্রদর্শণ করেছিলেন তার কোন তুলনা নেই।

নজিরবিহীন সাহসী এই বীর যোদ্ধা বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন স্বাধীনতার সৈনিক হিসাবে সর্বোচ্চ খেতাব, “বীরশেষ্ঠ” খেতাব পেয়েছিলেন।