ইউএনও’র প্রাণপণ চেষ্টায় অভিযোগকারী মহিউদ্দিন রক্ষা পেলেন

প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন।

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তদন্তকালে অভিযোগকারী মহিউদ্দিন নামে এক সাংবাদিক চরম জনরোষের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ওয়াই বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের হস্তক্ষেপে প্রাণে রক্ষা পান অভিযোগকারী সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার।

সূত্র জানায়, গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আনেন সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মনজুরা আক্তার। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল।

সম্প্রতি ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার ও সাংবাদিক তানজিলা শাহ রুবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিলে সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই কেন্দুয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫) এর ধারায় কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামি ছিলেন সিএন টিভি ২৪ নিউজের সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার (৪৫), স্বাধীন কাগজের সাংবাদিক তানজিলা শাহ রুবি (৩৫) এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যা মনজুরা আক্তার (৪০)।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর মহিউদ্দিন ও রুবি ইউএনও, পিআইও, ইউপি প্রশাসক ও সাবেক সচিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে টিআর-খাবিকা প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তদন্তে আসেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুখময় সরকার।

তদন্ত কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদে শুনানি শেষে সরেজমিনে ওয়াই বাজারে গেলে সেখানে উপস্থিত হালিম মাস্টারের সঙ্গে মহিউদ্দিনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত জনতা মহিউদ্দিনকে মারধর শুরু করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় এডিএম সুখময় সরকার ও ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার দৌড়ে এসে জনতার হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এলাকাবাসী জানান,সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশন করায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আজকে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

সাংবাদিক তানজিলা শাহ রুবি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমরা শুরু থেকেই আতঙ্কে ছিলাম। মহিউদ্দিন ভাই আজ মারধরের শিকার হয়েছেন। আগের অভিযোগ ও আজকের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অন্যদিকে হালিম মাস্টার জানান, “আমি শুধু সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে জিজ্ঞেস করি কেন তিনি মিথ্যা সংবাদ করেন। তখন তিনি আমাকে ঘুষি মারেন। এরপর এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হয়।” তিনিও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াই বাজারে গেলে পেছন থেকে হইচই শুনে আমরা দৌড়ে যাই। প্রাণপণ চেষ্টা করে মহিউদ্দিনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ক্ষুব্ধ জনতার কবল থেকে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিসহ তার স্টাফরা আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন ইউনিয়ন পরিষদের শুনানিকালে তাকে আমরা দেখিনি। হইচই শুনে আমরা দৌড়ে গিয়ে তাকে দেখতে পাই। এই ঘটনা কি থেকে কেন ঘটেছে বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান তিনি।