পুলিশের সহায়তায়

১৪ মাস পরে বাড়ি ফিরলেন আখাউড়ার এক পরিবার

প্রকাশিত: ৯:২৯ অপরাহ্ণ , ২৩ আগস্ট ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 10 months আগে
ছবি: কালের বিবর্তন

আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৪ মাস পর পুলিশের সহায়তায় বাড়ি ফিরেছেন হাজী আবদুস সামাদের পরিবার।

গত ১৭ আগষ্ট দুপুরে পরিবারটি বাড়ি ফিরলেও প্রতিপক্ষের হামলা-মামলার আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিদিনই ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এবং তাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় মহড়া দিচ্ছেন। তবে পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ন সহবস্থান যারা নষ্ট করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ১৬ জুন (ঈদ-উল আযহার আগের দিন) বিকেল সাড়ে ৩টার সময় রুটি গ্রামের হাজী আবদুস সামাদের ছেলেরা কোরবানীর পশু কেনার জন্য প্রতিপক্ষ আবু সাঈদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে আবু সাঈদের বাড়ির সামনে পৌছামাত্র পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হাজী আবদুস সামাদের ছেলেদের উপর অতর্কিত হামলা করে। পরে সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে হাজী আবদুস সামাদের ৫ ছেলে ও প্রতিপক্ষের ৩জন আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতবস্থায় হাজী আবদুস সামাদের ছেলে অ্যাডঃ রুবেল মিয়া, টিটু মিয়া, ইসরাইল হোসেন, ইসমাইল হোসেন ও রহমত উল্লাহকে প্রথমে আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকগন তাদেরকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

অপরদিকে প্রতিপক্ষের আহত হোসেন মিয়া, আবু সাঈদ এবং বোরহানকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হোসেন মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখান থেকে হোসেন মিয়াকে ঢাকার নর্দান হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরদিন রাতে (১৭ জুন) আহত হোসেন মিয়ার ছোট ভাই আবু সাঈদের স্ত্রী নিলুফা বেগম বাদী হয়ে হাজী আবদুস সামাদসহ তার পরিবারের ৭জনকে আসামী করে আখাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ১৭ জুন রাতে ঢাকার নর্দান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন মিয়া মারা যায়। হোসেন মিয়া মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুনরায় হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় হাজী আবদুস সামাদের পরিবারের লোকজন বাড়ি ত্যাগ করে। তখন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবদুস সামাদের বাড়ির নিরাপত্তাজনিত কারনে বাড়ির কলাপসিল গেইটে তালা দিয়ে চাবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই হাজী আবদুস সামাদের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। (আখাউড়া থানার মামলা নং-১৫, জিআর ১৩৯/২৪)।

মামলাটি দায়েরের পর গত ২০২৪ সালের ২৪ আগষ্ট প্রতিপক্ষ আবু সাঈদের লোকজন হাজী আবদুস সামাদের বাড়িতে ব্যাপক হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে হাজী আবদুস সামাদের পরিবারের ৭৫ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি হাজী আবদুস সামাদের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-২৩, জিআর-২৩/২৫)।

পরে চলতি বছরের ১৩ জুন প্রতিপক্ষ আবু সাঈদের লোকজন পুনরায় হাজী আবদুস সামাদের বাড়িতে হামলা করে বাড়ির কলাপসিপল গেইট, দরজা-জানালা ও গ্রীল, বাড়িতে থাকা টিনের ঘরের বেড়া খুলে নিয়ে যায় ও সেমি পাকা ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। এ ঘটনায় হাজী আবদুস সামাদ বাদী হয়ে চলতি বছরের ২২ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- সিআর-২৯৭/২৫)।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী হাজী আবদুস সামাদ বলেন, আবু সাঈদের পরিবার গ্রামে আমাদের প্রতিপক্ষ। তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে বাড়িতে যাতায়াত করতে হয়। গত বছর আমার ছেলেরা কোরবানীর পশু কেনার জন্য বাজারে যাওয়ার পথে আবু সাঈদের বাড়ির সামনে পৌছামাত্র আবু সাঈদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমার ছেলেদের উপর অতর্কিত হামলা করে। পরে সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমার ৫ ছেলে ও প্রতিপক্ষের ৩জন আহত হয়। আমার ছেলে অ্যাডভোকেট রুবেল নিরপরাধ। ওইদিন সে তার ভাইদেরকে হামলা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন অ্যাডভোকেট রুবেলকে প্রধান আসামী করে আমিসহ আমার পরিবারের ৭জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে আব

হোসেন মারা যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন দফায় দফায় আমার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও লুটতরাজ করে।
দীর্ঘ ১৪ মাস পর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় আমরা বাড়িতে ফিরি। বাড়িতে ফেরার পর প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদেরকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। দল বেঁধে আমার বাড়ির সামনে মহড়া দেয়। এ অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে সহকারি পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মোঃ আতিকুর রহমান জানান, পুলিশের সহযোগীতায় ১৪ মাস পর হাজী আবদুস সামাদের পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরেছেন। আমরা উভয়পক্ষের শান্তিপূর্ন সহবস্থান চাই। আর যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশী টহল অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, আমি দুইপক্ষকেই বলেছি পাল্টাপাল্টি মামলায় আদালত রায় দেবে। আমরা শুধু দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্নভাবে সহবস্থানে বসবাস করার কথা বলেছি। কেউ যদি শান্তিপূর্ন সহবস্থানে বিঘœ ঘটায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া।