
আব্দুর রাজ্জাক , কমলগঞ্জ :মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালটি জনবল সংকট ও অব্যস্থাপনার কারনে নিজেই রোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে ২ জন ডাক্তার। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানুষজন দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জানা যায়. ৭বছর পূর্বে ৩০ শয্যার হাসপাতালটিকে অবকাঠামোগত ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্ধ দেয়া হয়নি। সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন বহি:বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২শ থেকে ৩শ রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করতে আসছেন।
ফলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, হাসপাতালের ৪টি কনসালটেন্ট পদে ৩টি এখনও শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া) পদ শূন্য রয়েছে।
তবে কনসানটেন্ট খাদিজা রহমান শিল্পী (গাইনী) কমলগঞ্জ থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও প্রেষণে ঢাকা শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজে কর্মরত রয়েছে। এদিকে মেডিকেল অফিসারের ২টি পদই শূন্য, জুনিয়র কনসানটেন্ট (মেডিসিন) ১টি পদে শূন্য রয়েছে, সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে শূন্য ৫টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এসআই) পদে শূন্য ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফী) পদে শূন্য ১টি, কার্ডিওগ্রাফার পদে শূন্য ১টি, ওয়ার্ড বয় পদে শূন্য ১টি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ১টি পদ শূন্য রয়েছে।
এছাড়া কোটি টাকা ব্যয় করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৩ সালে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, ২০২০ সালে ইসিজি মেশিন এবং ২০১৪ সালে ডিজিটাল আল্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিন সরবরাহ করা হয়। ৪টি মেশিন সরবরাহ করার পরও কোন টেকনিশিয়ান (সনোলিস্ট/রেডিওগ্রাফার) পদে লোক না থাকায় কোটি টাকার মেশিনগুলোর সুবিধা রোগীদের দিতে পারছে না।
এতে করে হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীরা এসব যন্ত্রের সুবিধা না পেয়ে বাহিরে ব্যয়বহুল খরচে পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে হচ্ছে।
আরো জানা যায়, হাসপাতালে ২টি এ্যাম্বুলেন্স এর মধ্যে ড্রাইভার সংকটের কারণে ১টি এ্যাম্বুলেন্স সচল আছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আছমা বেগম, দুলাল মিয়া,সাফিয়া, রাহাত মিয়া, ছালেহা বিবি বলেন, হাসপাতালে আসলে পরীক্ষা-নিরিক্ষার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে করানো সম্ভব হয়না, বাহির থেকে করাতে হচ্ছে।
নিয়মিত ঔষধ পাওয়া যায়না। বাহির থেকে কিনে খেতে হয়। ডায়বেটিকস এর ঔষধ ৪ মাস থাকলে ৮ মাস থাকে না।
এছাড়া হাসপাতালটির রোগী থাকার ওয়ার্ড গুলোর বিছানার কাভার,বালিস নোংরাও অপরিছন্ন। বাথরুম সমূহ নিয়মিত পরিস্কার করা হয়না।
হাসপাতালের পেছনের অংশে ময়লা আর্বজনার স্তুুপ জমে থাকায় নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে সারাক্ষণ মশামাছির উপদ্রব লেগেই আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তাররা বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে রোগীদেরকে সেবা দিচ্ছি। পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় অতিরিক্ত সময়েও ডিউটি করতে হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভুঁইয়া জনবল সংকটের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ৩১ শয্যা থেকে অবকাঠামোগত ৫০ শয্যায় উন্নতি করলেও ৩১ শয্যার সরঞ্জাম দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবার কাজ। প্রয়োজনীয় জনবল এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
আমাদের সবাই আন্তরিক থাকায় জনবলের সংকট নিয়েও রোগীদেরকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যদি জনবল বৃদ্ধি করা হয় তাহলে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া এক্সরে,ইসিজি,ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন আছে,তবে টেকনিশিয়ান (সনোলষ্টি/রেডিওগ্রাফার) না থাকায় মেশিনগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
চালুর জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ঔষুধের বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঔষুধ চলে আসবে। রোগীদের ভোগান্তিতে থাকতে হবে না।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...