কমলগঞ্জে কেরামত আলী জামে মসজিদ এক ঐতিহাসিক নিদর্শন

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ , ১৭ মে ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কেরামত নগরে অবস্থিত ‘আলহাজ্ব কেরামত আলী জামে মসজিদ’ একটি অনন্য মোগল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৬৭ সালে নির্মিত এই তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি এখন এক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

জানা যায়, মসজিদটির নির্মাতা ছিলেন তৎকালীন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক এম এল এ আলহাজ্ব মো. কেরামত আলী। ধর্মপ্রাণ এই মানুষটির উদ্যোগেই মোগল আমলের স্থাপত্য রীতিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয় ‘আলহাজ্ব কেরামত আলী জামে মসজিদ’।

মসজিদের প্রধান ভবনের ছাদে রয়েছে তিনটি গম্বুজ—মধ্যখানে একটি বৃহৎ এবং তার পাশে দুটি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে রয়েছে ইরানি ও উপমহাদেশীয় নকশার সংমিশ্রণে তৈরি কারুকাজ। গম্বুজ ও দেয়ালে ব্যবহৃত হয়েছে ইরান থেকে আমদানিকৃত মূল্যবান পাথর, যার অলঙ্করণে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে ইসলামী জ্যামিতিক শিল্পকলা।

চার কোণায় নির্মিত সুউচ্চ মিনার, টেরাকোটার কাজ ও মার্বেল খচিত নিখুঁত নকশা মসজিদটির স্থাপত্যর সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। অভ্যন্তরেও রয়েছে প্রশস্ত নামাজঘর, ঝকঝকে মোজাইক টাইলস ও মার্বেল পাথরের ছাঁদ। দেয়ালে সুরা লিখিত সাজসজ্জা মসজিদের পবিত্রতা ও আভিজাত্য প্রকাশ করে।

মসজিদের সঙ্গে রয়েছে একটি বৃহৎ পুকুর, সুপরিকল্পিত ঘাট, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য পৃথক আবাসন। প্রাকৃতিক ও নির্মিত সৌন্দর্যের এই সমন্বয় মসজিদ টিকে করেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক স্থাপনা।

প্রায় এক হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন এ মসজিদে। জুমার দিন ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে দূরদূরান্ত থেকেও মুসল্লিদের উপস্থিতি মসজিদটিকে ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত করে।

স্থানীয় প্রবীণ মুসল্লি মো. আব্দুল মন্মান (৭০) বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই এই মসজিদে নামাজ পড়ি। এখানকার পরিপাটি পরিবেশ ও স্থাপত্য সৌন্দর্য আমাদের গর্বিত করে। সরকার যদি এটি সংরক্ষণে এগিয়ে আসে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন রক্ষা পাবে।”

তরুণ মুসল্লি মো. সোলাইমান উদ্দিন (৩৫) বলেন, “জায়গা সংকটের কারণে জুমার দিনে অনেক সময় সমস্যা হয়। আমরা চাই মসজিদের সম্প্রসারণ চাই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরামত আলী জামে মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি মৌলভীবাজার জেলার একটি সম্ভাব্য ইসলামিক হেরিটেজ স্পট। সরকারের যথাযথ উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।