নওগাঁর তপোবন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া ভাউচারে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ , ১৫ মে ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

নওগাঁ সদর উপজেলার তপোবন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত পাঁচ লাখ টাকার ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (SEDP) এর অধীনে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস (PBGSI) স্কিমে বরাদ্দকৃত এই অর্থ শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ছিল।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, এসব অর্থের সিংহভাগই ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। একটি ভাউচারে ২০০AUCH জঙ মিক্সিং মেশিন বাবদ দেখানো হয়েছে ৭৬ হাজার টাকা, যার বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকারও কম। বই ও বুক সেলফ কেনার খাতে দেখানো হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা, অথচ বিদ্যালয়ে বাস্তবে মাত্র কয়েক হাজার টাকার বই দেখা গেছে।

অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ১২ জনকে ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৫০ হাজার টাকার কোনো ব্যবহার বা উপকরণেরও হদিস পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় অভিভাবক জুয়েল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল হাকিম বলেন, “এই বরাদ্দ উন্নয়নের জন্য ছিল, কিন্তু শিক্ষকরা সেটা নিজেদের পকেটে ভরেছেন। যদি ঘটনা সত্যি হয়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কখন বরাদ্দ আসলো আর নতুন কি মেরামত বা ক্রয় করলো আমাদের বিদ্যালয়ের উন্নয়ন এর জন্য আমরা সঠিক জানিনা। তবে যদি বরাদ্দ এসেও থাকে তাহলে হয়তো অল্প কিছু কাজ করেছে।

তপোবন বালিকা উচ্চ বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিউর রহমান বলেন, বিগত কমিটির সময় বরাদ্ধ পেয়েছিলাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল কাজ হয়েছে। তাতে কিছু ১৯-২০ হয়েছে এটা আমি স্বীকার করি। বিল ভাউচার গুলা সমন্বয় করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাঃ ওয়াসিউর রহমান বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখবো। যদি বরাদ্ধকৃত টাকার ব্যায়ের খাতে অসঙ্গতি পাই তবে অব্যশই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, বরাদ্দকৃত টাকার অব্যশই স্বচ্ছতার সাথে শতভাগ কাজ করতে হবে। সেই সাথে উল্লেখিত কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেগুলোতে অনিয়ম করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।