শেরপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, মসজিদের সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ , ২৯ জুন ২০২৪, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

শেরপুরে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে স্থানীয় মসজিদের সভাপতিসহ একাধিক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে স্থানীয়রা। এদিকে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ২৮ জুন শুক্রবার বিকেলে শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খড়িয়া গ্রামের মো. জাহের উদ্দিনের বোন তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত পৌনে পাঁচ শতাংশ জমি প্রতিবেশী সাহেদ আলীর কাছে বিক্রি করে। সাহেদ আলীর ক্রয়কৃত জাহের আলী দখল করে রাখে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ আট বছর যাবৎ দ্বন্দ্ব চলছিলো। জমির মালিকানা নির্ধারণে আদালতে মামলা চলমান আছে।

কিন্তু হঠাৎ করে দখলদার মো. জাহের উদ্দিন বাদি হয়ে শেরপুর সি.আর আমলী আদালতে ৩২৩, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় সাহেদ আলী ও স্থানীয় খড়িয়া ঈদগাহ মাঠ জামে মসজিদের সভাপতি সুরুজ আলীসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। যার নাম্বার ১৬২/২০২৪। বিগত ২ মে ঘর নির্মান করতে গেলে জাহের আলীর কাছে দুই লাখ টাকার চাদাঁ দাবি করেন বিবাদীরা।

অভিযুক্ত আসামি ও এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান এ ধরনের কোন ঘটনায় ঘটেনি। এই মিথ্যা মামলা দায়েরের খবরে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা আজ বিকেলে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।

মামলার বিবাদী মো. সুরুজ আলী বলেন, আমার ভাই সহেদ আলী পার্শ্ববর্তী জাহের উদ্দিনের পরিবারের অংশিক মালিকানা জমি সাবকাবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। সেই সময় বিক্রেতা আমাদের জমি মেপে বুঝিয়ে আমাদের দখলে দেন।

কিন্তু এরপর হঠাৎ করে জাহের উদ্দিনের পরিবার আমাদের ক্রয়কৃত জমি জোর করে দখল করে নিয়ে ঘর তৈরি করে। পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিচারের অপেক্ষায় আছি এবং জোর করে দখলে গিয়ে আইনশৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করিনি। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছে। এটা মেনে নেয়ার মতো নয়। আমরা এর ন্যায় বিচার দাবি করছি।

অপর আসামী ছহেদ আলী বলেন, আমি কৃষক মানুষ। কষ্টে কিনা জমি দখল পাচ্ছিনা। আবার আমাকেই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার আসামি করলো। তাহলে দেশে বিচার কি থাকলো। আমি এর বিচার চাই।

মামলার স্বাক্ষী জাফর আলী বলেন, এখানে তো কোন ঘটনায় ঘটেনি। আমি কি স্বাক্ষী দিবো। মামলাটি মিথ্যা, তাই আমরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি।

প্রতিবেশী যুবক রফিকুল ইসলাম বলেন, আসলে ২ মে কোন ঘটনায় ঘটেনি। আমাদের মসজিদের সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি।

মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের সাথে চড়াও হয়।

মামলার বাদী জাহের আলী রেগে ও ক্ষোভে বলেন, তারা আমার বোনের কাছে আমাদের না জানায় জমি কিনেছে। চাইলেই তো জমি দেওন যায় না। আমাদের বাপ দাদার জমি বোন পাবে।

আর তারা কিনলো কেন। কিনলে আমরা কিনমু। ওই জমির জন্য আমার বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছে। তাই আমিও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করছি।