
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় উত্তর চৌমুহনী, কলেজ রোড, হাটবন্দ, পানিদার, কাঠালতলী, হাকালুকিসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে উপজেলার ফসলি জমি এবং পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণ। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিমজ্জিত’র পরিমাণ আরও বাড়বে।
জানা যায়, ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাথারিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী, কলেজ রোড, আদিত্যের মহাল, হাটবন্দ, পানিদার এলাকায় প্রবেশ করতে থাকে। যারফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
এদিকে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ, নারী শিক্ষা একাডেমিতে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে তাছাড়া বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কের কাঠালতলী ও শাহবাজপুর সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ‘বিভিন্ন ছড়া পর্যাপ্ত খনন না হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এলাকার লোকজন পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন। ফসলি জমি, পুকুর, ফিসারীসহ অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনীর একাংশে প্রধান সড়কের উপর দিয়ে ও জফরপুর আঞ্চলিক সড়কে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক লোকজন ঘরবাড়ি ফেলে অন্যত্র স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ‘প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। যা আগে কখনো হয়নি। এর ফলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্টানের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার বাড়িতেও পানি। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন আবার লাগাতার বৃষ্টি হলে সমস্যায় পড়তে হবে।’
পৌর শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ও বিভিন্ন ছোট-বড় ছড়া অবৈধভাবে ভরাট করে বাসা-বাড়ি স্থাপনা তৈরি করার কারণে পানি ঠিকমতো নিচ দিকে প্রবাহিত হতে পারছে না। সেজন্য অতি বৃষ্টিপাত হলেই উত্তর চৌমুহনীর একাংশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিমজ্জিত’র পরিমাণ আরও বাড়বে।
বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘পৌর এলাকার প্লাবিত অংশে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে পানিবন্ধিদের আপাতত আশ্রয় এবং তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
তিনি বলেন, ছোট-বড় ছড়া অবৈধভাবে ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে পানি নিষ্কাশনে ব্যাহত হচ্ছে তাছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেও কোন ফল পাইনি। পৌর শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও যথাযথ পানি নিষ্কাশনের উপযোগী নয় তাই ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় স্থানগুলো মেরামতের জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী