ভাঙা এম্বুলেন্সে ৬ মাস ধরে রুমার ঠিকানা

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ , ১২ জানুয়ারি ২০২৪, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা হাসপাতালের পরিত্যক্ত এম্বুলেন্সের ভেতর রুমা নামের মধ্যবয়স্ক এক নারী ঘর সাজিয়েছেন। অনেক পাগল পরিত্যক্ত ঘর বা রাস্তার পাশে থাকলেও ৬ মাস ধরে ভাঙা এম্বুলেন্সই ঠিকানা ঘরেছে এ রুমা।

স্থানীয়রা জানান, রুমা নামের অজ্ঞাত নারী মানসিক প্রতিবন্ধী। তার নাম জিজ্ঞেস করলে রুমা বলতে শুরু করেন আমি প্রেসিডেন্ট। ঠিকানার কথা জিজ্ঞেস করলে বলে ‍”আদালত”। এটুকু ছাড়া নিজের সম্পর্কে আর কিছুই বলতে পারে না।

ছয় মাস ধরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত এম্বুলেন্সই তার ঠিকানা। তীব্র শীতে কোন গরম কাপড় ছাড়াই এখানেই রাত্রি যাপন করেন তিনি। আবার কখনো বিভিন্ন ভবনের খোলা জায়গাতেও রাত্রি যাপন করতে দেখা যায় তাকে। কারো কাছে খাবার চায়না সে। কেউ ভালভাবে ডেকে খাবার দিলে খায় সে। স্থানীয় চায়ের দোকানদার হেদা মিয়া প্রতিদিন তাকে খাবার দিয়ে থাকে।

তবে প্রথম দিকে কারো সাথে কথা না বললেও, এখন নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন রুমা।

দোকানদার হেদা বলেন, আমি রুমা পাগলিকে দুইমাস খাওয়ায়ছি। পরে কোথায় যে গেলো আর পাইলাম না। পরে আবার হটাৎ কইরা চার মাস থাইক্কা আইছে। এহন আমি আর এম্বুলেন্সের ড্রাইভার মিলে দিনে দুইবার খাওন দেয়। আমরা চাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় করিম মিয়া বলেন, আমরা অনেক পাগল দেখছি তবে এর মতো না। এ পাগল সবাই খাবার খায় না। আর সব জায়গায় থাকেও না। কিছুদিন বাজারে ঘোরাঘুরি করছে পরে এই এম্বুলেন্সে থাকা শুরু করছে। কিছু শীতের কাপড় হলে তারজন্য ভালো হয়।

সম্প্রতি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব ঝিনাইগাতী সদস্যরা শীত বস্ত্র ও কম্বল নিয়ে রুমার খোঁজ করেন। তাকে পাওয়া যায় পরিত্যক্ত এম্বুলেন্সের ভেতর। সংগঠনের নেতারা এ অজ্ঞাত মহিলার ঠিকানা জানার চেষ্টা করছে।

ভয়েস অব ঝিনাইগাতী প্র‍তিষ্ঠাতা জাহিদুল হক মনির বলেন, এই পাগল মহিলা অনেকদিন থেকে থাকতেছে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারছি। আমরা তাকে বিভিন্ন সময় খাবার ব্যবস্থা ও শীতের কাপড় দিয়েছি। তার পরিবারের খোঁজ করার জন্য সন্ধান চালিয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মো: আল আমীন বলেন, আমাদের এই হাসপাতাল কাম্পাসে ৩০-৩৫ বছরের এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে দীর্ঘদিন যাবত দেখতেছি। ওনি দিনেরবেলায় হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাঘুরি করেন। রাতে পরিত্যক্ত এম্বুলেন্সের ভেতর থাকেন। আমরা তার পরিবারের সন্ধান পেলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। এতে করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।