মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টিতে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ , ৭ অক্টোবর ২০২৩, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

মৌলভীবাজারে তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে অনেকেই সারা দিন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। টানা বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে।

শনিবার (৭ অক্টোবর) ভোর রাত থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এজন্য গৃহবন্দী দিনমজুররা। তারা বেরোতে পারেননি কর্মস্থলে,বন্ধ রয়েছে অনেক কর্মস্থলও।

ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের রাজমিস্ত্রী গোপাল বিশ্বাস জানান,‘আজ কাজে গিয়েও ফিরে এসেছেন বৃষ্টির কারণে। কারন এই বৃষ্টিতে কাজ করা সম্ভব নয়। বৃষ্টির মধ্যে কোনোমতে কাজে উপস্থিত হই, সেখানে উপস্থিত হয়ে জানতে পারি কাজ হবেনা এবং অন্যরাও বৃষ্টির জন্যে কাজে আসতে পারেনি।’

কুলাউড়ার উপজেলার ঠেলা চালক কুমার বলেন,‘ঠেলা নিয়ে বের হয়েছি তিন দিন কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হয়েছে প্রতিদিন। সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মূল্যবান জিনিসপত্র বৃষ্টিতে নিলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে কেউর প্রয়োজন পড়ছে না ঠেলা গাড়ির।’

কমলগঞ্জ উপজেলার রিস্কা চালক সন্তুোষ জানান,‘দরকার ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রিক্সা চালিয়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। যেখানে ৭০০-৮০০ হয়ে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।কারন,রিক্সাটা ভাড়ায় চালাই।মালিককে কি দিব, আর নিজে কি নিবো,আর সংসার চালাবো কি করে।’

কুলাউড়া উপজেলার সবজি বিক্রেতা আশিক মিয়া জানান,‘সারাদিন বৃষ্টি থাকার কারনে গত তিনদিন ধরে বেচা-বিক্রি হচ্ছেনা। অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।’

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামাল মিয়া বলেন, ‘যা কিছু হয় সব গরিবের ক্ষতি হয়, ধনীর কিছু হয় না। বন্যা হলে, বৃষ্টি হলে, করোনা হলে, খরা এলে গরিব মরে। আমার চা-পানের দোকানে বিক্রি একেবারে কম।’

দিনমজুর হরিচন জানান, টানা বৃষ্টির কারনে ঘরে বসে দিন পার করতে হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে কোন কাজ না থাকায় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ‘আবহাওয়ার বিষয় সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,শনিবার সকাল থেকে জেলায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। তাপমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫.৬। রবিবার থেকে বৃষ্টি কমতে শুরু করবে।’