মারা গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণমানুষের নেতা আল মামুন সরকার

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ , ২ অক্টোবর ২০২৩, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ চেয়াম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার সকালে ফুলবাড়িয়ার নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

আল মামুন সরকারে এপিএস সোহাগ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আল মামুন সরকার দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসা শেষে তিনি গত কিছুদিন যাবত আগের চেয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করছিলেন। গতকাল রোববারও সংবাদ সম্মেলন করাসহ পরিষদের যাবতীয় কাজে অংশ নেন। সোমবার বাদ আছর জেলা ঈদগাহ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে শেরপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আল-মামুন সরকার দীর্ঘদিন যাবত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসা শেষে তিনি গত কিছুদিন যাবত আগের চেয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করছিলেন। গতকাল রোববারও সংবাদ সম্মেলন করাসহ পরিষদের যাবতীয় কাজে অংশ নেন।

এদিকে আল-মামুন সরকারের মৃত্যুতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পতি সমবেদনা জানান। মন্ত্রীর পিআরও ড.রেজাউল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আল-মামুন সরকারের মৃত্যুতে জেলার সর্বত্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলমত নির্বিশেষে সবাই ছুটে যাচ্ছেন তাঁর বাড়িতে। সান্তনা জানাচ্ছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের পতি।

  • কে ছিলেন আল মামুন সরকার —

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া আল-মামুন সরকার একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি দলের তৃনমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন নেতা। তিনি ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে ছাত্র রজনীতিতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা ছাত্রলীগের কোষাধ্যক্ষ (অর্থ বিষয়ক সম্পাদক) নির্বাচিত হন। পরে তিনি পর পর দুইবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি ছিলেন, পর্যায়ক্রমে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ছিলেন।

আল-মামুন সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজসেবায় তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আল-মামুন সরকার ১৯৮৯ সালে ভারতের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত এশীয় যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিনিধি হিসেবে অংশ গ্রহন করেন। তাছাড়া তিনি ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০তম সাধারন পরিষদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করেন। ২০১৭ সালে তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অর্থমন্ত্রণালয়ের এনবিআর প্রদত্ত সম্মানজনক ‘‘টেকস কার্ড’’ লাভ করেন।