
ঢাকার সাভারে সরকার পতনের এক দফা দাবির আন্দোলন শেষে ফেরার পথে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের হয়েছে। এঘটনায় দলটির চার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মামলা গায়েবী এবং গ্রেফতারে মধ্য দিয়ে যৌক্তিক আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার মামলা ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি খন্দকার মাইনুল হাসান খান বিল্টু, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কফিল উদ্দিন, ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুদ্দিন, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদিসহ ৪০ জন।
এদিকে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মো. আক্তার হোসেন কবিরাজ (৫২), উয়ালিউল্লাহ ওয়ালিদ (৩৭), মো. সজিব হোসেন (৩৪) ও ওসমানী গনিকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
মামলার এজহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় সাভারের আমিনবাজারে মিরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ঢাকা জেলা বিএনপি’র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিকেলে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ থেকে ফেরার পথে সাভারের হেমায়েতপুরে তানিন প্লাস্টিক চেয়ার কারখানার গোডাউনের সামনের পাকা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও চলন্ত গাড়ি ভাংচুর করে। বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পুলিশের ওই দল বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের চিহ্নত করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের শপিং ব্যাগে ৫ টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৩ টি বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা, ৯ টি কাঁচের টুকরা ও বিএনপির এক দফা দাবি সম্বলিত ব্যানার জব্দ করা হয়। পরে ওইদিন রাতেই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল জলিল মন্ডল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী ও সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল জলিল বলেন, আমিনবাজারে বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হেমায়েতপুরে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরন ঘটায়। ঘটাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা, অবিস্ফোরিত ককটেল এবং ভাঙা কাচের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কফিল উদ্দিন বলেন, আমরা তো ওই এলাকায় (হেমায়েতপুর) যাইনি। অযথাই এ মামলা দেয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দেয়া হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় বিষ্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...