
মধ্যবিত্ত এমন একটি নাম, যার মাঝে লুকিয়ে আছে, হাজার সুখ-দুঃখের একরাশ গল্প। কিন্তু সেই গল্পগুলো নিরবে থেকে যায় অজনার অতল গহব্বরে। চাপা হতাশারা মাঝেও একটু মুচকি হাসি দিয়েই বলে এইতো বেশ ভালো আছি। এই হচ্ছে মধ্যবিত্তদের জীবনের জটিল সমিকরণ। মধ্যবিত্ত পরিবারের হালধরা ব্যক্তির সংগ্রামটা অন্য আট-দশজনের চেয়ে আলাদা। জীবনের কঠিন বাস্তবতা পদে পদে তার পায়ে শিকল পরিয়ে দেয়। ছকে বেঁধে দেয় তার সব ইচ্ছেগুলো। প্রতিনিয়তই জীবন সংগ্রামে কঠিণ যুদ্ধ করে দাঁত কামড়ে বেঁচে থাকতে হয়। আসলে মধ্যবিত্ত নামে একটি শব্দ আছে। না ওপরে, আবার নিচেও না। মাঝামাঝি এদের অবস্থান। এ জন্য নামটি হয়তো ‘মধ্যবিত্ত’।
সীমিত আয়ে যাদের জীবন যাপন করতে হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারে যিনি হাল ধরেন, তাকে প্রতিটি ধাপ পারি দিয়ে হয় অনেক ভেবে চিন্তে। মাসের শুরু থেকেই তাকে কঠিণ যুদ্ধের সম্মখীন হতে হয়। পরিবারের সবার চাহিদা মিটিয়ে বেলা শেষে বড্ড ক্লান্ত তিনি। তবুও জীবন যুদ্ধে বড় সৈনিক তিনি। একজন মধ্যবিত্ত ব্যক্তি সীমিত সামর্থ্য দিয়ে পরিবারের সবার স্নেহ আর ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ঘটান অতি নীরবে। বিনিময়ে খুশি ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার থাকে না।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের হালধরা ব্যক্তি খুব কমই এর প্রতিদান পান। তার ত্যাগের কথা, তার সংগ্রামের কথা প্রায়ই অজানা থেকে যায় পরিবারের সদস্যদের কাছে। জীবন চক্রে এক অন্যরকম জীবন খেয়ার পথ পারি দিতে হয়। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির কারনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জীবনযাত্রায় কিন্তু আয় না বাড়ায় সংকটে পড়েছেন মধ্যবিত্তরা। এমন পরিস্থিতে তাদের সীমাহীন সমস্যার কথা বলতে পারেনা। বলা হয়ে ওঠেনা। কঠিণ জীবন পার করছেন তারা। কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারছেনা আমি ভালো নেই।
সামাজিকতা আর লোকলজ্জার আঁড়ালে এক হতাশার জীবন কাঁটাতে হচ্ছে তাদের। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি জানে, জন্মের সময় থেকেই তাদের অভিজ্ঞতার খাতা লেখা শুরু হয়ে যায়। অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনটি শ্রেণি বিরাজমান রয়েছে নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত। এই তিনটি শ্রেণিকে আবার তিনটা করে উপ-শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায় তা হলো, নিন্ম মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত।
ধারনা করা হয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির উৎপত্তি পাঠান যুগ হতে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিতরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্থান দখল করে নেয়। তারপর পাকিস্তান শাসনামলে বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠে।
যারা সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্পর্কগুলো সহ অনেকগুলো ক্ষেত্র ছিল বেশ রক্ষণশীল। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান বিভক্তির পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাথে পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণির কোন আপোষ হয়নি বলে ভাষা আন্দোলন হতে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত সকল আন্দোলনে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ছিল বিরাট ভূমিকা। দেশে বেড়েই চলেছে মধ্যবিত্তদের সংখ্যা। তাদের চাপা কান্না নিরবেই রয়ে যায়। সামাজিকতা আর লোকলজ্জায় অজানা ভয়ে মধ্যবিত্তরা তাদের নিজেদের বিশাল অসহায়ত্বের কথা বলতে পারবে না কারো কাছে।
তবুও বাঁচতে হবে এই সমাজে। নিজ গৃহে হয়তো অনেক সময় চুলা জ্বালানোর মত খাবারও থাকেনা, হাজারো সমস্যার মধ্যেও বলা হয়ে ওঠে একরাশ শূণ্যতা ও হতাশার কথা। নীরবে-নীভৃতে পার করতে হয় দিন,মাস আর বছর। সবকিছুর দাম বাড়লেও বাড়েনা মধ্যবিত্তদের জীবন যাত্রার মান।
-লেখক, সংবাদিক
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...