বাবা-মার কবরের পাশে সমাহিত হলেন এমপি সাত্তার

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

দীর্ঘ চার জানাযার পর অবশেষে মা, বাবার কবরের পাশে সমাহিত হলো বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস সাত্তার। সরাইল উপজেলার পাকশিশুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে চতুর্থ জানাযা শেসে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হলো।

উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞার একমাত্র ছেলে মাইনুল হাসান তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞার প্রথম নামাজে জানাজা শনিবার সকাল ১১ টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। তারপর সড়ক পথে আনা হয় তার সংসদীয় আসনে। সেখানে বাদ আসর সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দ্বিতীয় নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা, উপজেলার আওয়ামীলীগ নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। তবে দীর্ঘ ৩৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও সেখানকার জানাযায় জেলা ও উপজেলার বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আওয়ামীলীগ নেতারা। জানাযা শেষে সেখান থেকে তৃতীয় জানাযার জন্য নেওয়া হয় তার নিজ প্রতিষ্ঠিত “ আব্দুস সাত্তার ডিগ্রী কলেজে। বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হয় আব্দুস সাত্তারের তৃতীয় জানাযা।

সেই জানাযা শেষে আব্দুস সাত্তারের মরদেহ নেওয়া হয় তার নিজ গ্রাম পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে। সেখানকার ঈদগাহ ময়দানে চতুর্থ জানাযা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে আব্দস সাত্তারকে সমাহিত করা হয়।

আব্দুল সাত্তার ভূঞা ১৯৩৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ ভূঞা ও রহিমা খাতুনের সংসারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি পদে ছিলেন দীর্ঘদিন।

আব্দুস সাত্তার ভূঞা ১৯৭৯ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও জুনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকার থেকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে আবদুস সাত্তার আইন, মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেন। ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে গত ২ ফেব্রুয়ারি উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এ নেতা। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন।