নরসিংদী

কোটি টাকার ৪ সেতু আসছে না গ্রামবাসীর কাজে

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে
নরসিংদীতে প্রায় কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ৪ টি সেতু নির্মাণ করা হলেও প্রতিটি সেতুতেই নেই সংযোগ রাস্তা।

নরসিংদীতে প্রায় কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ৪ টি সেতু নির্মাণ করা হলেও প্রতিটি সেতুতেই নেই সংযোগ রাস্তা। ফলে পারাপার করতে পারছেন না গ্রামবাসী। সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও ভোগান্তি কমে নি পথচারীদের। প্রায় অর্ধ যুগ আগে এসব সেতু গুলো নির্মাণ করা হলেও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে এখনো। এসব সেতু ব্যবহার করতে না পেরে বাশেঁর সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, সেতু গুলোর একটি অবস্থিত নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী, দুটি একই উপজেলার চরদিঘলদি ইউনিয়নে এবং অন্যটি রায়পুরা উপজেলার আমীরগঞ্জে এলাকায় ৬ থেকে ৭ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলোকবালী ইউনিয়নের কাজিরকান্দি ও বকশালীপুর গ্রামের সংযোগ রক্ষা করতে খালের ওপর ৪০ ফুট দৈর্ঘের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দুটি গ্রামের মাঝে প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘের সড়কও তুলনামূলক কম উচু হওয়ায় পানির নিচে সড়কটি তলিয়ে গেছে।

শুকনা মৌশমেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে না। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অর্থায়নে ৩০.৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণ করার পর থেকে সেতুটির সংযোগ সেতু না থাকায় চলাচল করতে পারছেন না গ্রামবাসী। পাশাপাশি সেতুরটির ফলকের বিভিন্ন অংশও ভেঙ্গে গেছে। অন্য দিকে পরের অর্থ বছরে ৩৮.৮৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের চরদিঘলদি বাজার রাস্তায় নির্মিত সেতুটির একই অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

নরসিংদীতে প্রায় কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ৪ টি সেতু নির্মাণ করা হলেও প্রতিটি সেতুতেই নেই সংযোগ রাস্তা।

আলোকবালীর বকশালীপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়া (৪৫) বলেন, “সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল দুটি গ্রামের স্বাভাবিক যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়কে উভয় পাশের রাস্তায় ৪-৫ ফুট পানি। সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় এক কিলোমিটারের রাস্তা ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ঘুরে কাজিরকান্দি ও তার আশের পাশের গ্রাম গুলোতে বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। সেতু নির্মাণ করার পর কখনো রাস্তা নির্মাণ করা হয় নি বলেও জানান তিনি।

আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদ উল্লাহ মোল্লা বলেন, “হরিলুটের আয়োজন হিসেবে এসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। স্থানীয় সরকারের লোকজন ও কিছু অসাধু আমলা সরকারের পকেট কাটার জন্য এসব কাজ করেন। আলোকবালীর কাজিরকান্দি এলাকায় প্রায় ৭ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও কেনো সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয় নি, তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন এই নেতা আরও বলেন, আমি যতটা জানি, এ রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এসেছে, কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে হয় আত্মসাৎ করে ফেলেছে।

চরদিঘলদি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাঈদ আব্দুল্লাহ (৫৫) বলেন, “চরদিঘলদি বাজারের পাশেই সংযোগ রাস্তা ব্যতীত সেতু অবস্থিত। এ সেতুর মাধ্যমে পাশের আরও তিন গ্রামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতো। কিন্তু রাস্তার সংযোগ না থাকায় মালামাল পরিবহনে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের দাবি এ সেতুর সংযোগ রাস্তা স্থাপন করে কষ্ট লাঘব করার দাবি জানাচ্ছি।

রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ শাহাদাৎ ইসলামের অভিযোগ সেতুরটির সংযোগ রাস্তা তুলনামূলক নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে, এটি জনগণের ব্যবহারের জন্য কোনো কাজে আসছে না।

যোগাযোগ করা হলে আলোকবালী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু বলেন, “ইতিপূর্বে সেতুরটির জন্য দু’বার রাস্তা মেরামত করেছি। কিন্তু বর্ষাকালে স্রোতের কারণে ও নৌকার ঘর্ষণের জন্য রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। এবার পানি চলে যাবার পর রাস্তা আবারও ঠিক করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।