
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মেধাবী শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৭৩ তম ব্যাচের (২০১৯-২০সেশনের) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
জন্মের পরে হারান বাবাকে। নানান প্রতিকূলতায় মায়ের আঁচল ধরেই তার বেড়ে উঠা। দুই ভাইইয়ের মধ্যে মুশফিক ছোট। পড়াশুনায় ভাল হওয়ায় ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ ভাগ্যের নির্মম কুঠারাঘাতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে মুশফিকের। চলতি বছরের মে মাসের ৩১ তারিখে শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা করতে গেলে সেখানে তার কিডনীর সমস্যা ধরা পড়ে। দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারনে তার শরীরও অকেজো হতে বসেছে।
মুশফিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের কালু মুন্সির বাড়ির গোলাম মোস্তফার দ্বিতীয় ছেলে। মুশফিকের বড় ভাই নাশাদুল ইসলাম তফসির ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার মা মনিরা বেগম একজন গৃহীনি। পরিবারের খরচ চালাতে মুশফিক ও তার বড় ভাই টিউশনির উপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে মুশফিককে প্রতি সপ্তাতে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডাক্তার বলেছে আরো একবার বাড়াতে হবে। অর্থাৎ এখন থেকে প্রতি সপ্তাতে মুশফিককে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হবে।
এই অবস্থায় তার কিডনী প্রতিস্থাপন খুবই জরুরী। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তার পরিবার। কোনরকমে সপ্তাহের ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে তাকে। এতে ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে মেধাবী মুশফিকের জীবন প্রদীপ। বিগত একমাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনিরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর এসবিএফ নাজির আহমেদ সামসুল হক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার থেকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। ডায়ালাইসিসের জন্য প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে অন্তত ২০ হাজার টাকা।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-
ব্যাংক একাউন্ট
ডাচ বাংলা ব্যাংক
হিসাব: মুশফিকুর রহিম
হিসাব নাম্বার: ১২৬১৫৮০০১২২৫৬রকেট:
০১৭৬৪৪১২৬৬৬৪
নগদ:
০১৭৩৫৪৩৬০৪৫
বিকাশ:
০১৭৬৪৪১২৬৬৬প্রয়োজনে: ০১৭৩৫৪৩৬০৪৫ (মুশফিকের বড় ভাই)
চিকিৎসকরা বলেছেন, মুশফিকের দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। নিজস্ব কোন ডোনার না থাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন ও চিকিৎসা বাবদ দরকার প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ হবে। এ ব্যয় বহন করা মুশফিকের পরিবারের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই তাকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান ও দানশীল বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মুশফিকের পরিবার ও বন্ধুরা। ইতোমধ্যেতার বন্ধুরা এগিয়ে এসেছেন। মুশফিকের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানবিক আবেদন করেছেন তারা।
মুশফিকের বড় ভাই নাসাদুল ইসলাম তাফসির বলেন, আমাদের বাবা মারা গেছে ২০ বছর আগে। তখন ছোট ভাই মুশফিকের বয়স ছিল দেড়মাস। আমাদের মা অনেক কষ্ট করে আমাদেরকে লালন পালন করে বড় করেছেন। মুশফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর টিউশনি করে সে নিজের খরচ চালাচ্ছিল। সম্প্রতি তার কিডনীতে সমস্যা ধরা পড়ে। তার চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই অর্থ খরচ করার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমি নিজেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের অনার্স বিভাগে পড়াশোনা করছি। আমাদের পরিবারের আর্থিক উপার্জনেরও তেমন ব্যবস্থা নেই। মা ছোট ভাইয়ের এই করুণ পরিস্থিতি দেখে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সমাজে অনেক বিত্তবান রয়েছেন। সবাই যদি আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসে তাহলে আমার ভাইটা নতুন জীবন ফিরে পাবে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাই তিনি যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মুশফিকে বাঁচিয়ে আমার মায়ের কোলে আবার ফিরিয়ে দেন।
এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, একটি জীবন ফুরিয়ে যাবে এটি কখনো কাম্য নয়। আমরা আমাদের সাধ্যমত মুশফিকের পাশে দাড়াব। পাশাপাশি সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানরাও মুশফিকের পাশে দাড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
জাবির তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক...
জাবির তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের...
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুদ প্রায়...
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান,...
বিলাসী জীবনের আশায় অনলাইনে চুরি শিখে গ্রেপ্তার নারী
বিলাসী জীবনের আশায় অনলাইনে চুরি শিখে...
মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী...
১০ মাস পর সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত, চলছে না জাহাজ
১০ মাস পর সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত, চলছে...
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কোনাবাড়ীতে পুলিশ বক্সে আগুন
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কোনাবাড়ীতে পুলিশ বক্সে...