
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যায়ামাগারে (জিম) গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূসহ দুইজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ ভূইয়া বিপ্লবসহ ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ৩ টায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। গত বুধবার (৩০) আগষ্ট জেলা শহরের মৌলভীপাড়ায় বিএস ফিটনেস ক্লাব নামে একটি জিমে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা সেদিন রাতে ওই গৃহবধূর ভাসুর মাসুদুর রহমান (সোহাগ) বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর ওই তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ সেই জিম সেন্টারের পরিচালক। এছাড়া জিমের ফিটনেস ট্রেইনার মিতু আক্তার ও সাইমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সেই গৃহবধূ ও তার বোন জেলা শহরের মৌলভীপাড়ায় অবস্থিত বিএস ফিটনেস জিম সেন্টারে নিয়মিত শরীর চর্চা করেন। জিম সেন্টারটিতে মেয়েদের জন্য শরীর চর্চার বিশেষ ব্যবস্থা ও পুরুষের যাওয়ার অনুমতি না থাকায় ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের শরীর চর্চার ট্রেইনার হিসেবে ছিলেন মিতু আক্তার। তবে জিমে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ট্রেইনার মিতু আক্তারের উপর সন্দেহ সৃষ্টি হয় গোপন ভিডিও ধারণ করার বিষয়ে। কয়েকদিন আগে তারা নিশ্চিত হন ট্রেইনার মিতু গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করেছেন। গত বুধবার বিকেলে মিতুকে ভিডিও করার কথা জিজ্ঞাসা করলে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে ট্রেইনার মিতু বিষয়টি জিমের পরিচালক জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ ভূইয়া বিপ্লবকে জানান। খবর পেয়ে বিপ্লব মিতুকে নিয়ে তাদের দুই বোনের কাছে যান। সেখানে মিতু ওই গৃহবধূর চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে জিমে থাকায় শহরের উত্তর পৈরতলার সোহেল মিয়া নামে এক যুবক তাদের বাঁচাতে আসলে বিপ্লবসহ তার সহযোগীরা তাদের লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে আটকে রাখেন। পরে মামলার বাদী মাসুদুর রহমান সোহাগ ৯৯৯-এ কল দিলে সদর মডেল থানা পুলিশ এসে তারা ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেন। সেসময় জিমের পরিচালক হাবিবুল্লাহ ভূইয়া বিপ্লব, ট্রেইনার মিতু আক্তার ও সাইমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর আহত হওয়ায় ওই গৃহবধূ ও সহায়তা করতে আসা সোহেলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বুধবার দিবাগত রাতে আটকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসাইন বলেন, জিমে গোপন ভিডিও ধারণ করার সন্দেহে দুজন মহিলা গ্রাহকদের সাথে পরিচালক, জিম ট্রেইনারদের সাথে বাকবিতন্ডতা ও মারামারি ঘটনা ঘটে। এঘটনায় তাৎক্ষনিক জিমের পরিচালক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ, ফিটনেস ট্রেইনার মিতু আক্তার ও সাইমকে আটক করে পুলিশ। সেই সাথে ফিটনেস টেইনার মিতু আক্তারের মোবাইলটি পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। তবে মিতু আক্তারের মোবাইলটিতে জিম সেন্টারে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া গিয়েছে তবে সেটি কোনো আপত্তিকর ভিডিও নয়।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় হত্যার উদ্দ্যেশে মারপিট ও চুরি অপরাধে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮/৯ জনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। আটকতৃক সেই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...