• ভিডিও
  • লেবাননে গত এক বছরে ৫৮ জন প্রবাসীর মৃত্যু

লেবাননে গত এক বছরে ৫৮ জন প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

মো: জুয়েল রানা, লেবানন ব্যুরো : ২০১৯ সালে লেবাননে মৃত্যুবরণ করেন ৫৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশী, যার অধীকাংশ মৃত্যুই হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। আত্মহত্যা ও খুনাখুনের মত ঘটনাও ঘটেছে গেল ২০১৯ সালটিতে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, প্রতারক দালালদের প্রতারণার শিকার, লিভটুগেদার ও টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া এসকল মৃত্যর মূল কারন বলে মনে করেন কমিউনিটি সদস্যরা।

লেবাননে ২০১৯ সালে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ও বিভিন্ন কারণে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৮ প্রবাসী বাংলাদেশির। এই ৫৮ জনের মধ্যে ৩২জনই মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, যাদের অধীকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। দালাল ও লিভটুগেরদারের জেরে খুন হয়েছেন ৫জন, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬ জন এবং আত্মহত্যা করেছে ৪জন প্রবাসী। এছাড়া আরো ১১ জন বিভিন্ন কারনে মৃত্যবরণ করেন।

প্রবাসীরা জানান, প্রবাসের মাটিতে কোন মৃত্যুই কাম্য নয় কোন প্রবাসীদের। লিভ টুগেরদার ও খুনের মত ঘটনায় লেবাননে নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের অর্জিত সুনাম। এসব বন্ধ না করা গেলে আগামীতে সুনাম ধরে রাখাটাই কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রবাসীরা। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচারের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান চান সাধারণ প্রবাসীরা। তবে কিছু কিছু অপমৃত্য বেদনা দায়ক বলে মনে করেন তারা।

অন্য দিকে লেবাননে চিকিৎসা খরচ অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় অল্প আয়ের প্রবাসীরা যেমন ডাক্টারমূখী হতে পারেন না, আবার অনেক প্রবাসী বুকে ব্যথা অনুভব করলেও স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসা নেননা। অনেকের নেই ডায়াবেটিক এর মত রোগের কোন নিয়ন্ত্রন। ফলে সহজেই এরা আক্রান্ত হয়ে পরেন হৃদরোগে।

ডা: অনুপ জানান, তবে এসব প্রবাসীদের সেবায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাতিসংঘের অধীনে লেবাননের সমুদ্র সীমানায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহীনির উদ্যোগে মাঝে মাঝেই দেয়া হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা। প্রতিবারের বিনামূল্যে চিকিৎসা নেন ৪ শতেরও অধীক প্রবাসী। তাদের অনেকেই হৃদরোগ হওয়ার মত অনেক কারণ রয়েছে বলে জানান জাহাজ বিজয়ের চিকিৎক অনুপ। তার মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেয়তেই ঘটে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা।

লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার জানান, প্রবাসে মৃত্য সত্যিই দুঃখজনক। তবে অন্যান্য বছরের থেকে ২০১৯ সালে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমেছে।

রাষ্ট্রদূত আরো জানান, রাস্তা পারাপারে অনেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেন না বিধায় ঘটে অনাকাংখিত দূর্ঘটনা। সকল বিষয়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন সভা সেমিনারে সর্বক্ষন সতর্ক করে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

প্রবাসীদের অবহেলায় ও ছোট্র একটি ভুলের কারণে আর যেন কোন প্রবাসীর মৃত্যু না হয় এমন আশা ব্যক্ত করেন সাধারণ প্রবাসীসহ কমিউনিটির নেতারা।

মন্তব্য লিখুন