
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে পর্যটকদের পদাচারনায় মুখুর হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। নীল জলরাশি, ঢেড়য়ের ছন্দ, বিস্তীর্ণ বালুচর, সবুজ পাহাড় আর মেরিন ড্রাইভের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। বন্ধের দিনগুলোতে কক্সবাজারে লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায় পর্যটকদের ভীড়।
কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর ক্লান্তি দূর করতে দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে পর্যটকেরা ছুটে এসেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। প্রিয়জন, সহকর্মী ও বন্ধুদের সাথে দর্শনার্থীরা সময় কাটিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে নিজেকে ভেজাচ্ছেন, কেউ বালুচরে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অরুপ সৌন্দর্য। কোন দর্শনার্থীরা সমুদ্র সৈকতের ছবি স্মৃতিতে ধরে রাখতে মুঠোফোন, ক্যামেরায় ছবি ও ভিডিও ধারন করছেন।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় দর্শনার্থীদের উপস্হিতি । সমুদ্রের ঢেউ দেখতে শিশুদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। সমুদ্র পাড়ে শিশুরা কেউ খেলছে, কেউ ঝিনুক কুড়াচ্ছে। অনেক তরুন তরুনীকে সূর্যাস্তের মনোমগ্ধকর দূশ্যের ছবি তুলতে দেখা যায়।
সিনিয়র শিক্ষক নাজমূল শাহীন জালাল জানান, দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ও মানষিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে কক্সবাজারের আসা। সমুদ্রের বিশালতা, ঢেউয়ের গর্জন ও নির্মল পরিবেশ মনকে শান্ত করে।
সিনিয়র শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, সারা বছর নানা কাজের ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়। কক্সবাজারে এসে সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালেই অন্যরকম অনুভূতি হয়।
বিকেল থেকে সূর্যাস্তের সময় বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভীড়। অস্তগামী সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে।
পর্যটকদের ঘিরে সমুদ্র সৈকত এলাকায় গড়ে ওঠা স্হানীয় ব্যবসায়ীরা, খাবার হোটেল, হকার, শুটকি, সামদ্র মাছ, ঝিনুক, শামুকের দোকান। সমুদ্র কেন্দ্রিক খাবারের দোকান, হোটেল মোটেলসহ পর্যটন নির্ভর বিভিন্ন পেশার মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে স্হানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা- বানিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।
শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শহরের ব্যস্ত জীবনে সব সময় কাজ আর দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়। সমুদ্রের দিকে তাকালেই মনটা হালকা হয় । সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ যেন সব ক্লান্তি নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক এলে আমাদের আয় বাড়ে। পরিবার চালানোর জন্য আমরা ব্যবসা করি। মানুষ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আনন্দ করতে আসে, আমাদের সংসারে স্বস্তি আসে।
কক্সবাজার শুধু সমুদ্র দেখা নয়, ব্যস্ত জীবনে র ক্লান্তি ভূলে প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে কিছুটা সময় কাটানো। সমুদ্রের ঢেউ,বালুকনা ও খোলা আকাশের নিচে মানুষের আনন্দ -উচ্ছ্বাস যেন বলে দেয় কিছুটা অবসর, কিছুটা প্রকৃতি ও প্রিয়জনের সাথে জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৈকত এলাকায়ন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা রয়েছে। নিরাপদে সমুদ্রে নামা, নির্ধারিত এলাকায় বাইরে পর্যটকদের না যাওয়া ও সৈকত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শেখ হাসিনার সেই দায়িত্ব রুমিন ফারহানা কাঁধে নিয়েছেন।।...
শেখ হাসিনার সেই দায়িত্ব রুমিন ফারহানা...
জাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম
জাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো....
কমলগঞ্জের কুরমা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২টি একনলা বন্দুক...
কমলগঞ্জের কুরমা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২টি...
একজন চিকিৎসক, অমিলন মানব সেবার ইতিহাস
একজন চিকিৎসক, অমিলন মানব সেবার ইতিহাস
কমলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ব্যাগ ও টিফিন বক্স...
কমলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ব্যাগ ও...
কমলগঞ্জে বিনামূল্যে ছাগল ও ভেডার পিপিআর টিকাদান কর্মসূচীর...
কমলগঞ্জে বিনামূল্যে ছাগল ও ভেডার পিপিআর...