
মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত জেলা হওয়ায় এবং সরাইল দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পথ থাকার কারণে মাদক কারবারিরা এটিকে ট্রানজিট ও বিতরণের সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
সরাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা দাবি করে বলেন। ঢাকা- সিলেট হাইওয়ে বাড়িউরা বাজার দিয়ে মাদক ঢুকে। থানার পাশে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশের বিল্ডিং মাদকের হাট বসে এমন দাবি করে বক্তব্য দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।সরাইলে মাদক যেভাবে ভয়াবহতা সৃষ্টি করেছে।
এখন যুব সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বক্তব্যে বলেছেন, এই মাদকের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত। যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে। মাদকের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনের পাশাপাশি পুলিশি অভিযান বাড়াতে হবে।মাদকের বিস্তারে নারী ও শিশুদের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে।
মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার আমদানি, সরবরাহ ও বেচাকেনার জন্য নিরাপদ হিসেবে নারী ও শিশুদের বেছে নিচ্ছেন।মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থনৈতিক লাভ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্কের কারণে মাদক বিক্রি ও পাচার বন্ধ করা কঠিন হচ্ছে।
মাদক চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে সরাইল উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় মাদকে’র বিস্তার রোদে ও মাদকের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার ছিলেন, দিয়েছেন বক্তব্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা।
এতকিছুর পরেও মাদক সরাইলে বিভিন্ন স্পটে বিক্রি হচ্ছে এমন দাবি আইন-শৃঙ্খলা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। হাইওয়ে হয়ে বিভিন্ন পথে সরাইলে মাদক ডুকে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ইউনিয়নে মাদক বিরোধী সমাবেশ করছে। আইন-শৃঙ্খলা সভায় অনেক সদস্যরা বলেছেন” মাদকের টাকা ক্যাশ লেনদেন হয়” সবাই মাদকের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও এটি যেভাবে বিক্রি ও ছড়িয়ে পড়ে, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:১. বিপুল অর্থনৈতিক লাভ ও সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফা: খুব কম খরচে তৈরি বা সংগ্রহ করা মাদক বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়।
এই বিশাল অঙ্কের লোভের কারণে অপরাধীরা ঝুঁকি নেয়।মাদক ব্যবসা সাধারণত কোনো একক ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। এর পেছনে কাজ করে বিভিন্নজন ও স্থানীয় শক্তিশালী অপরাধী চক্র বা সিন্ডিকেট।
বর্তমানে মাদক কেনাবেচায় মোবাইল ব্যাংকিং, ডার্ক ওয়েব এবং বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড (গোপন) মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। ফলে অপরাধীদের সহজে চিহ্নিত করা যায় না।সীমান্ত দিয়ে বা দুর্গম এলাকায় এখন নজরদারি এড়াতে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক পাচারের ঘটনাও ঘটছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কুরিয়ার সার্ভিস, এমনকি নারীদের ও শিশুদের ব্যবহার করে অভিনব উপায়ে মাদক এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা হয়।মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা তীব্র আসক্তির কারণে যেকোনো মূল্যে মাদক পাওয়ার চেষ্টা করে।
বাজারে স্থায়ী ‘ডিমান্ড’ বা চাহিদা থাকার কারণে বিক্রেতারাও তাদের ব্যবসা চালু রাখার সুযোগ পায়।অনেক সময় বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণ আসক্তদেরই নিখরচায় মাদক দেওয়ার লোভ দেখিয়ে খুচরা বিক্রেতা বা ‘বাহক’ হিসেবে ব্যবহার করে।
সীমান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মাদক সহজে প্রবেশ করে।
দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে শতভাগ পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।মাদক নির্মূলে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা এবং আসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কমিটি করতে অনুষ্ঠিত আইন- শৃঙ্খলা সভায় আহ্বান জানান। ” সবাই মাদক বন্ধ চাই তবুও সরাইলে হাত বাড়াইতে ইয়াবা।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে ষ্টেশনে গেইটম্যান বিহীন লেভেল ক্রসিং
কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে ষ্টেশনে গেইটম্যান বিহীন...
আক্কেলপুরে রেললাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ...
আক্কেলপুরে রেললাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির...
আজ মহান শিক্ষা দিবস
আজ মহান শিক্ষা দিবস
রাজবাড়ীতে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৮
রাজবাড়ীতে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি...
লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২
লালপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত,...
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া বার্তা
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া...