
আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় কাল বৈশাখি ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ১৭ খুঁটি ও বেশ কিছু জায়গায় ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ৫ দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন (এই রির্পোট লেখার সময় ২৯ এপ্রিল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত) । দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে।
২৮ এপ্রিল রাতে বটতলা এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন মানুষজন রাত নয় টায় রাস্তায় নেমে প্রায় ১ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। জানা যায়,গত (২৫ এপ্রিল) রাতে কাল কৈশাখি ঝড় হানা দেয়। ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ঘর,গাছপালা,বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে।
ফলে শহর এলাকার কিছু কিছু এলাকা ছাড়া পুরো কমলগঞ্জ উপজেলাই গত ২টা থেকে টানা ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় স্থবির হয়ে আছে। টানা ৫দিন পার হলেও বিদ্যুৎ না ফেরায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে। বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশী সংকটে পড়েছে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। তারা কুপি বাতির আবছা আলোয় রাতের বেলা পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সপ্না রানী ও জাহেদ হাসান তানজিম বলেন, কয়েক দিন ধরে কারেন্ট না থাকায় আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। কুপির বাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করে আমাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ কুপির ধোঁয়া ও স্বল্প আলোয় পড়লে চোখে প্রচন্ড ব্যথা হয়। পরীক্ষার সময়ে এমন বিদ্যুৎহীনতা আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় পৌরসভা ও ইউনিয়ন অফিস সমুহের ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরি সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ। এছাড়া বিদ্যুৎ নির্ভরশীল কলকারখানা,অফিস-আদালত ও বাসা-বাড়ীর মানুষজন ও চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পিংকি পাল বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেটসহ যাবতীয় সরঞ্জাম বিদ্যূতের ওপর নির্ভরশীল। কারেন্ট না থাকায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ বা জরুরী অনলাইন আবেদনের মতো কোনো সেবাই আমরা দিতে পারছি না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ফিরে যাচ্ছেন।
ডিজিটাল যুগের সেবাকর্মী হয়েও কুপির বাতির নিচে বসে থাকা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। মোবাইল নেটওর্য়াক না থাকায় এবং চার্জের অভাবে মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকাবাসী।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জের গ্রামে বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে তার ও খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে লাইনের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বেশ সময় লাগতে পারে।
পল্লী বিদ্যুত সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ জানান, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। ৬০টি মিটার নষ্ট হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ১৫০ শতাধিক স্থানে তার ছিড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করে বিদ্যুত লাইন চালু করার।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এবিএম মিজানুর রহমান জানান, গত কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে এবং বেশ কিছু জায়গায় খুঁটি ও ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমাদের কর্মীরা গত রোববার থেকেই মাঠে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। মূল সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...