
আব্দুর রাজ্জাক রাজা,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও গ্রামে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে মনিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ‘লাই হরাওবা’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আবেগঘন ও স্নিগ্ধ পরিবেশে।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে বারোটায় ‘লাই হরাওবা’ অনুষ্টানে অংশগ্রহণকারী কলাকৈশলী ও ভক্তরা পথপরিক্রমা করা মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান (১০ এপ্রিল) শুক্রবার রাতে সম্পন্ন হয়েছে।
হাজার –হাজার নারী-পুরুষ,কিশোর-কিশোরীদের বর্ণীল সাজে উপস্থিতি বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। গ্রামীণ পথ ধরে দলে দলে মানুষ এসে জড়ো হতে থাকেন-কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে, আবার কেউ কেবল সংস্কৃতির টানে।
কিশোরী ও তরুণীদের খোঁপায় ময়ূরের পেখম, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, আর শিশুদের উচ্ছ্বাস উৎসব প্রাঙ্গণের চারপাশে বসেছিল ছোট ছোট দোকান, খেলনা, প্রসাধনী থেকে শুরু করে নানা রকমের মুখরোচক খাবারের দোকানগুলো উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শেষ দিনের বিকেল থেকেই জমে ওঠে মূল আয়োজন। উৎসব প্রাঙ্গণে দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে, আর মঞ্চের পেছনে কুশীলবরা প্রস্তুুত হন তাদের পরিবেশনার জন্য। ঢোল, খোল, বাঁশিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে ধীরে ধীরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মূল নৃত্যপর্ব যেখানে নারী, কিশোরী ও শিশুদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠে।
‘লাই হারাওবা জগোই’ এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র,শুধু একটি নৃত্য নয়, বরং সৃষ্টির গল্প বলার এক আদি ভাষা। মাইবি বা নারী পুরোহিতদের নেতৃত্বে এই নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতি, মানবজীবনের নানা ধাপ এবং দেবতাদের প্রতি ভক্তি। সুর, তাল ও মুদ্রার সমন্বয়ে পুরো পরিবেশ এক সময় রূপ নেয় প্রার্থনার মতো পবিত্র আবহে, যেখানে দর্শকরাও যেন নীরবে সেই আধ্যাত্মিক যাত্রার অংশ হয়ে যান।
আয়োজকদের ভাষ্যমতে, ‘লাই’ অর্থ দেবতা এবং ‘হারাওবা’ মানে আনন্দ অর্থাৎ এটি দেবতাদের আনন্দোৎসব।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে টিকে আছে।
লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব ওইমান লানথই বলেন,এটি শুধু একটি উৎসব নয়, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছি।
উৎসব স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) বলেন,লাই হারাওবা আমাদের সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিফলন, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গভীরভাবে প্রকাশ পায়।
আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) বলেন,মাইবিদের নৃত্য উৎসবের মূল আকর্ষণ, যা নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এই তারা আরো জানান,আয়োজন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে ইউনেসকো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, যা উৎসবটিকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...