নবীনগরে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা ও গ্রামছাড়ার হুমকির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ , ২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
প্রতিকী ছবি

জামাল হোসেন পান্না,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকোট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে এক প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা ও গ্রামছাড়া করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের বাসিন্দা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) রফিকুল ইসলাম মনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৬ মার্চ এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ঘটনার পর তিনি নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামকে ফোনে বিষয়টি জানান। তখন পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও তাঁর ভাইয়েরা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তাঁরা গ্রামে এলে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় প্রভাবকে কেন্দ্র করে মেম্বার রফিকুল ইসলাম মনা ও প্রভাবশালী আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদা না দেওয়া ও কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন রফিকুল ইসলাম মনা উত্তেজিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলমদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাড়ি ছেড়ে চলে যান, না হলে গ্রামের শত শত লোক আপনাদের ওপর হামলা করবে।’

জাহাঙ্গীর আলম সরকারের দাবি, এ ঘটনায় আব্দুল আউয়ালের মদদ রয়েছে। এতে তাঁদের পরিবার আতঙ্কে রয়েছে।
এ বিষয়ে উরখুলিয়া গ্রাম কমিটির সভাপতি ও বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, পূর্বে আব্দুল আউয়াল জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়ির ভেতর দিয়ে একটি সরকারি রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেখান থেকেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম মনা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে এসে গ্রামের পরিস্থিতি উত্তেজিত দেখতে পেয়ে তা শান্ত করতে জাহাঙ্গীর আলমদের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং কেবল সতর্ক করেছিলেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে থাকলে তারও বিচার হওয়া উচিত।”

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার পর জাহাঙ্গীর আলম সরকার থানায় অভিযোগ করলে শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মিজানুর রহমান (৪০), জিয়াউর রহমান (৪৫) ও আক্তার হোসেন (৪০) আহত হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বাছির মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি হামলায় অংশ নেন।

পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হুমকি ও সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকা পুলিশের নজরদারিতে আছে।

সরেজমিনে জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, কর্মসংস্থানের কারণে ১৯৯৭ সাল থেকে তাঁরা গ্রাম ছেড়ে দেশ-বিদেশে অবস্থান করছেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম সরকার আরও অভিযোগ করেন, আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।