পাংশায় ধর্ষকদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে উত্তাল :  মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ , ১৭ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 12 months আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মাসুদ রেজা শিশির : রাজবাড়ীর পাংশায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে পাংশা মডেল থানায় পৃথক ২টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিহাব মন্ডল ও হাসমত আলীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার আতারুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হাটবনগ্রাম বাজার এলাকায় বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় স্থানীয় হাজারও নারী পরুষ শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকার সচেতন মহল উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন থেকে ধর্ষকদের ফাসি চেয়ে বক্তৃতা করেন, সেই সাথে আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাই নাই, আমার বোনের কান্না আর না আর না,সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন।

বক্তরা পাংশা থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই আসামিদের তারা গ্রেফতার করে পুলিশের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন এজন্য এলাকাবাসির পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়। এমন অভিযান অব্যহত থাকুক সেই সাথে এই ধর্ষকদের মদতদাতাদের আইনের আওতায় আনা হোক বলেও দাবি তোলেন তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন হাটবনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরজিৎ বিশ্বাস, আতারুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ডাবলু, রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের নেতা সজীব রাজা, বিদ্যালয়ের মাওলানা শিক্ষক আব্দুল মাজেদ, পলী রাণী সরকার, কুঠিমালিয়াট গ্রামের রেজাউল ইসলাম, ছাত্র দল নেতা মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

মামলার এজহার সুত্রে ও এলাকা সুত্রে জানা গেছে রবিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের নওড়া বনগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ২ শিক্ষার্থী বনগ্রাম আতারুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনির ২ ছাত্রী।

মামলার এজারার সুত্রে অভিযুক্ত সিহাব কশবামাজাইল ইউনিয়নের কুঠিমালয়াট গ্রামের উজ্জল মন্ডলের ছেলে ও হাসমত আলী একই গ্রামের জেহের আলী মন্ডলের ছেলে। ভুক্তভোগী ২ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা স্কুল থেকে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে নওড়া বনগ্রাম এলাকায় এলে সিহাব ও হাসমত আমাদের পথ রোধ করে এবং পকেট থেকে ব্লেড বার করে আমাদের ভয় দেখিয়ে পাশের পানের বরজের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। সেই সাথে এই বিষয় জানাজানি হলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।

ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর পিতা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আমার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এ বিষয়ে আমরা মামলা করেছি আইননের মাধ্যমে বিচার কামনা করছি।

ধর্ষণের শিকার অপর শিক্ষার্থীর মা বলেন প্রাইভেট শেষে মেয়ে বাড়িতে এসে কান্না করতে থাকে তখন তার কাছে কান্নার কারন জানতে চাইলে বিষয় টা বলেন এই ছোট বয়সে আমার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আমি এর বিচার চাই।

স্থানীয় একাধিক মানুষ জানান এই অভিযুক্তরা এলাকায় বিভিন্ন বাজে কাজের সাথে জড়িত মাদক সেবনসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড তারা করে আসছে, এ দুজনের মধ্যে একজন ডাকাতি মামলায় জেল খেটে কিছুদিন আগেই বের হয়েছে।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় পাংশা থানায় পৃথক ২টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আমরা ২ জন আসামিকেই গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছি।