কেন্দুয়ায় স্কুল ছাত্রীকে শীলতাহানির চেষ্টা ঘটনার তদন্তের আড়ালে কি ধামাচাপার চেষ্টা?

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ , ১৯ মে ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মজিবুর রহমানঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে শীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত রিপোর্ট কতদূর? না-কি তদন্ত রিপোর্টের কালক্ষেপণের অজুহাতে বিষয়টি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে একটি মহল জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে শুনা যাচ্ছে।

গত ৫ মে সোমবার রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নুরেছা দুঃখেয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে নিয়ে যায় একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ওরফে চান মিয়া। পরবর্তী সময়ে ভিকটিমকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে সম্ভ্রমহানি

চেষ্টা করতে চাইলে ভিকটিম ডাক চিৎকার করে দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে আসে। এসময় মেয়েটির গায়ে হাত ও পড়নে কাপড় খোলার চেষ্টা করে অভিযুক্ত শিক্ষক।

ঘটনাটি তাঁর সহপাঠীরা প্রত্যক্ষ করেছে এমন লিখিত অভিযোগ থানায় করেছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার। এঘটনাটি পরেরদিন জানাজানি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয়ারা স্কুল প্রাঙ্গণে হট্রগোল চালালে স্কুল কতৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ওই দিন স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেন। বিকালে বেশকয়েকজন অফিসার নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার।

পরিদর্শন শেষে গঠিত ৫ সদস্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং তদন্ত রিপোর্ট একদিনের মধ্যেই প্রকাশ করবেন আশ্বাস দেন। কিন্তু ইউএনও’র বেঁধে দেওয়া সময় পার হওয়ার পর থেকে জনমনে নানান সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একদিকে তদন্ত নামে কালক্ষেপণ অন্যদিকে ঘটনার ধামাচাপার জোর চেষ্টা চালায় একটি মহল। অপরদিকে এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনার ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযোগটি আমলে নেয়নি থানার পুলিশ।

সব মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। একদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও দুই সপ্তাহ হতে চলছে তদন্ত রিপোর্টের খবর নাই।

এঘটনার প্রতিবাদে নির্যাতিত ওই কিশোরী শিক্ষার্থী চলতি মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন-২০২৫ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তার সাথে সহমত পোষণ করে আরো দুই সহপাঠী পরীক্ষা অংশ নেননি। বিষয়টিকে ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ওরফে চান মিয়া, অবশ্য তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শুরু থেকেই।

তিনি দাবি করেন,“তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্র এবং তিনি নির্দোষ।” তবে রাতে স্কুল কক্ষে প্রাইভেট পড়ানো ও ভিকটিমের ঘুম আসার কথা বললে একটি থাপ্পড় মেরেছেন বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। ভিকটিমের মামা মোজাম্মেল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান,বিষয়টি নিয়ে সেদিন স্কুলে মাঠে একটি দরবার বসে ছিল।

তারা দেড়লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল আমরা নেইনি। এবিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তবে কমিটির এক সদস্য বলেন,ঘটনাটি মিমাংসা হয়ে গেছে আর আমরাও তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি।

তবে তদন্তে কি পেলেন তা পরিষ্কার কিছু জানান তিনি। এবিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার ওসি তদন্ত জানান,বিষয়টি ইউএনও স্যারের তদন্ত ওপর নির্ভর করছে। ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন তাদের তদন্ত আর পুলিশের তদন্ত এক নয়।

স্থানীয় সচেতন কয়েকজন জানান, তারা প্রকৃত ঘটনাটি কি সেটি স্পষ্ট জানতে চায়। সত্যমিথ্যার আড়ালে ঘটনা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা হোক সেটি তারা চায় না। তারা শিক্ষক যদি ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তার দৃষ্টান্তমুলক বিচার চান আর যদি কোন নাটক সাজানো হয়ে থাকে তাহলে সেটির দৃষ্টান্তমুলক বিচার হোক। ছাত্রী-শিক্ষকের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া মানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকী বলেও মনে করেন তারা।