
সম্রাট হোসাইনঃ আজ বুধবার ৫৫ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপণ উপলক্ষে যশোর জেলার শার্শা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় ভোর ৫ টায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্পণ এবং এর পরবর্তী কর্মসূচী অনুসারে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ,মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ,কুজকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরনী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার প্রথম পর্বে, প্রত্যুষে শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ডা.কাজী নাজিব হাসানের নেতৃত্বে অত্র উপজেলার অন্তর্গত বেনাপোল পোর্টথানাধীন কাগজপুকুর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শার্শা উপজেলা প্রশাসন ও বেনাপোল পৌরসভা।
এতে অংশ নেন শার্শা প্রশাসনের কর্মকর্তা,কর্মচারী এবং বেনাপোল পৌরসভার কর্মকর্তা,কর্মচারীবৃন্দ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠান কর্মসূচীতে অংশ নেন “ক” সার্কেল,নাভারণ(যশোর)’র এএসপি,নিশাত আল নাহিয়ান,শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.রবিউল ইসলাম,বেনাপোল পোর্টথানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.রাসেল মিয়া, ইমিগ্রেশন অফিসার ইনচার্জ(ওসি),গোয়েন্দা দপ্তরের অফিসারবৃন্দ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যবৃন্দ।

দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় অত্র উপজেলার বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক সংলগ্নে অবস্থিত শার্শা মিনি স্টেডিয়ামে। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, কবুতর ও বেলুণ উড়িয়ে ৫৫ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভা ,কুজকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে পৃথক ভাবে নাভারণ হাইওয়ে থানা, যশোর, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এতে নেতৃত্ব দেন হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.রোকনুজ্জামান।
এদিকে,প্রশাসনের পাশাপাশি মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপণে শার্শা উপজেলা বিএনপি’র তত্বাবধানে বেনাপোল,শার্শা ও বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন সমূহ মুক্তিযুদ্ধে সকল শহিদ, বীরাঙ্গনা মা-বোন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালণ করে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ হলো ১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে(বর্তমানে বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রাম। পূর্ব পাকিস্তানে(বাংলাদেশ) বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং বাঙালি গণহত্যার প্রেক্ষিতে এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
যুদ্ধের ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। পশ্চিম পাকিস্তান-কেন্দ্রিক সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে এবং নিয়মতান্ত্রিক গণহত্যা শুরু করে।
এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পুলিশ ও ইপিআর কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়,চলে ৯মাস ব্যাপি।
৩০ লাখ মানুষের প্রাণ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানী ঘটিয়েছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। অবশেষে ১৯৭১সালের ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরি সমাপ্তি ঘটে। আমরা অর্জন করি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র “বাংলাদেশ”।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫...
শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মেডিকেল ও...