দুই মাদক কারবারি আটক’সরাইলে মাদকে গ্রাস করছে গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ , ১৬ নভেম্বর ২০২৪, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- কালের বিবর্তন

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইলঃ সরাইলে ১৬ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে সরাইল থানার পুলিশ। এ সময় মাদকের কাজে ব্যবহৃত একটি ডিআই পিকআপ জব্দ করে পুলিশ। শনিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর রাতে উপজেলার নোয়াগাও ইউনিয়নের বাড়িউড়া বাজারের পূর্ব উত্তর পাখি মাজারের দক্ষিণ পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কুট্টাপাড়া গ্রামের মৃত জাফর ঠাকুর এর ছেলে ইমন ঠাকুর ও বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া।

আটক করছেন বলে থানা সুত্রে জানাযায়। সরাইল উপজেলার পাশ্ববর্তী উপজেলা বিজয়নগর বর্ডার এলাকা রয়েছে। ঢাকা সিলেট হাইওয়ে হয়ে বিশ্বরোড মাদকের আস্তানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্বরোডো হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এবংসরাইল উপজেলায় মাদক সহজ ভাবে ঢুকে।

সরাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সেমিনারে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের তদারকির অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার বেশীরভাগ পাড়া-মহল্লায় এখন মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। বর্তমানে নারী পুরুষে পাশাপাশি অর্থের লোভে কিশোর যুবকরাও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।

ইতিমধ্যেই থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় এ উপজেলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদক প্রতিরোধে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অভিযান চলে।এছাড়া প্রশাসনিক ভাবে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই।

সংশ্লিষ্ঠ থানা পুলিশের তথ্যমতে জানা গেছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশী কেনা-বেচা হচ্ছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল,গাঁজা,আইস ও ট্যাপেন্ডটল ট্যালেট। কয়েক বছরের পূর্বে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একটি হিটলিস্ট তৈরি করা হয়। এতে শীর্ষ ও অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়।

ওই তালিকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধির নাম উঠে এসেছে। সেই সাথে নতুন কয়েকজন কিশোর যুবকের নাম রয়েছে। থানা পুলিশ এদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজনকে আটক করেছিল।তবে তারা জামিনে এসে আবারো মাদক ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকাবাসীরা বলেন, পাড়া মহল্লার কিছু বখাটে যুবকদের টাকার লোভ দেখায় মাদক ব্যবসায়ীরা। এরপর তাদেরকে ব্যবসায় যুক্ত করছে। আর তারা যুবকদের টার্গেট করে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় প্রকাশ্যে মাদকের আড্ডা বসাচ্ছে।

আর সেই কাজে সহযোগিতা করছে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া বহিরাগত শীর্ষ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী উপজেলা সদর এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেছে। তারা পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থেকে মাদকের কারবার চালাচ্ছে। মাঝে মধ্যে কিছু বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব সদস্যদের অভিযান হয়। মাদকসহ অনেকেই আটক হচ্ছে।

অথচ রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আইনগত ভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত( দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি) মো. রফিকুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি আরও বলেন, কারা কারা এই মাদকের সাথে জড়িত থেকে মাদক ব্যবসা করছে সেটা আমরা তদন্ত চলমান রাখছি।

মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত আছে।এছাড়া সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করছেন মাদককে জিরো টলারেন্স নামানোর। মাদক সেবনের দায়ে যারা গ্রেপ্তার হবে তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।