
নেত্রকোণার কেন্দুুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের ফলে কাঙ্খিত সেবা মিলছেনা।
উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১৬৪ টি পদ শূন্য থাকায় জোড়াতালি দিয়ে দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। জনবল এত সংকটের মধ্যেও পেষণে অন্যত্রে কাজ করছেন অনেকেই।
দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকার ফলে আশানুরূপ সেবা থেকে বঞ্চিত কেন্দুুয়া বাসী।
সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৬ কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণ করা হয়। ২০২১ সালের দিকে সিজারিয়ান অপারেশনসহ আরো কয়েকটি আধুনিক সেবা চালু হওয়ার ফলে হাসপাতালে সেবা প্রার্থীদের ভিড় বাড়ছে।
যেকারণে শয্যা সংকটে ভর্তিকৃত রোগীরা পড়েন চরম বিপাকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুঞ্জরীকৃত চিকিৎসক পদে মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা,আরএমও,জুনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার,নার্স,স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীসহ ২১২ পদ রয়েছে।
এরমধ্যে আবাসিক মেডিকেল পদ শূন্য, ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে আছে মাত্র ৩ জন। তাছাড়া মেডিকেল অফিসার ৭ জনের স্থলে আছেন ৬ জন। এই ৬ জনের মধ্যে হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৪ জন। বাকি দুইজন অন্য উপজেলায় কাজ করেন। ডেন্টাল সার্জন, ইউনানি ও আয়ুবেদিক চিকিৎসকের পদও শূন্য রয়েছে বহুদিন ধরে। ৩০ নার্সের স্থলে কাগজেকলমে ২৪ জন কর্মরত।
এই ২৪ জন থেকে ৩ জন কাজ করেন অন্য উপজেলায় । মিডওয়াইফ ৮ পদের মধ্যে ৭ জন রয়েছেন। এই ৭ জন থেকে অন্য উপজেলায় কাজ করেন ২ জন। এছাড়াও উপজেলার ১১টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১১ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ১৫ জন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড এর স্থলে কর্মরত আছেন ৮ জন,ফার্মাসিস্ট ১৩ জনের মধ্যে আছেন ১১ জন, এরমধ্যে একজন অন্য উপজেলা কাজ করেন।উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ১৫টি অফিস সহায়ক পদের সবগুলো পদই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে চালকের পদ শূন্য থাকায় ঘুরছে না এ্যাম্বুলেন্সের চাকা। ৫ জন পরিছন্নতাকমী পদের মধ্যে আছে মাত্র একজন। স্বাস্থ্য সহকারী ৫৯ পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৩ টি পদ। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ১৩ পদের মধ্যে আছেন ১০ জন। কাগজেকলমে ৪ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের মধ্যে আছেন ২ জন। বাকি দুইজন অন্য উপজেলা কাজ করেন।
এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আওতাধীন চিকিৎসকসহ ২১২টি মুঞ্জরীকৃত পদের ৯২টি পদেই শূন্য। অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিবার কল্যাণ সহকারীসহ মুঞ্জরীকৃত ১১৯টি বিভিন্ন পদের মধ্যে ৭১ পদেই শূন্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে সর্বমোট ৩৩১টি পদের মধ্যে ১৬৪ পদেই শূন্য তাহলে কেমন চলছে স্বাস্থ্য সেবা? একেকজন ব্যক্তি একাধিক পদের দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক,নার্স,মেডিকেল সহকারী,টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নার্সরা।
প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিছন্নতাকমী না থাকায় প্রায়শই অপরিষ্কার থাকে হাসপাতাল যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়। চালক না থাকায় প্রায় এক বছর যাবৎ বন্ধ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।
এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ থাকায় জরুরি রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েন রোগীর লোকজন। রেফার্ডকৃত রোগীর লোকজন বাধ্য হয়ে ৩/৪ গুণ টাকা বেশি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে যেতে হয়।
দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনবল সংকটের বিষয়টি বার বার উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানালেও তেমন সাড়া পাচ্ছেন না জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এবাদুর রহমান। তিনি আরো বলেন,জনবল সংকটের ফলে ৩জনের কাজ একজনকে করতে হয়।
চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি পরিসংখ্যান বিদ,এ্যাম্বুলেন্স চালক হাসপাতালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য। কয়দিন আগে অন্য হাসপাতাল থেকে একজন এ্যাম্বুলেন্স চালককে শাস্তিমূলক আমাদেরকে দিয়েছেন কিন্তু তাকে দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালানো সম্ভব না। কারণ সে দক্ষ চালক না। প্রথম দিন গাড়ি নিয়েই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। নাই ষ্টোর কিপার,পরিছন্নতাকমী।
প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ। জনবলের অভাবে আমরাও সেবা প্রার্থীদের আশানুরূপ সেবা দিতে সম্ভব হয় না। তিনি এসব শূন্য পদ পুরণের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষকে সুদৃষ্টি কামনা করেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, আমার এখানে সব মিলিয়ে ১১৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে মাত্র ৪৮ জন। সবচেয়ে বেশি জনবল সংকট হলো ৭৪ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী মধ্যে আছেন ২৫ জন। ১৫ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকার মধ্যে ৬ জন,৪ উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের মধ্যে আছে ২ জন,১৫ আয়া’র মধ্যে ৮ জন রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য পদে শূন্য তো আছেই। কিভাবে দৈনন্দিন কাজ সামাল দেই বলে বুঝানো যাবে না।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো.নুরুল ইসলাম বলেন,দিনদিন হাসপাতালে সেবা প্রার্থী রোগীর সংখ্যা বাড়তেছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে শূন্য পদগুলো পুরণসহ হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা উন্নীতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।
নেত্রকোণা সিভিল সার্জেন ডা: মো সেলিম মিঞা জানান,তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে। কিছুদিনের মধ্যে সার্কুলার দেব। আর চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ বা পদায়নের সুযোগ আমাদের হাতে নেই। ওইগুলো পদে পদায়ন করেন অধিদপ্তর। আমরা নিয়মিতই শূন্য পদে পদায়নের আবেদন করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ নারী...
কমলগঞ্জে চা পাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত...
হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর...
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
সাদা পোশাকে মুগ্ধতা ছড়ালেন অপু বিশ্বাস
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের...
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো : প্রধানমন্ত্রী