নওগাঁর নিয়ামতপুরে তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

যে কারো প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তাল গাছের রাজ্য। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য তাল গাছ। এক মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এই তাল সম্রাজ্যে বসেছিল তাল পিঠার মেলা। শুক্রবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যপী এই মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই সেখানে সমাগম ঘটেছে হাজারো মানুষের।

উত্তরের সীমান্তর্বী জেলা নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তাল সড়কে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে এ অঞ্চলের বহু মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশা-পাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি সব তাল পিঠারও। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মেলার উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মোরশেদ।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, এ বছর তালের গোলাপ পিঠা,ঝিনুক পিঠা,মাংশ পিঠা, পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২৫ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সজিয়ে বসেন দোকানীরা।

সাপাহার উপজেলা থেকে আসা দোকানি ইসফাত জেরিন মিনা বলেন, ‘আমার স্টলে ১২-১৫ রকমের পিঠা আছে। বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠা মেলায়। কেউ পিঠা খাচ্ছে, কেউবা বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে আবার কেউ কেউ পিঠার

নিয়ামপুরের স্থানীয় দোকানি সেফালী বেগম বলেন, আমার স্টলে ৮-১০ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন চলবে। আশা করছি অনেক মানুষ আসবে পিঠা খেতে।

জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দর্শনার্থীরাও। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া থেকে মেলায় আসা আব্দুল মান্নান বলেন, অনেকদিন ঘুরাফিরা করা হয় না। পিঠা মেলায় এসেছি। বেশ কয়েক রকমের পিঠা খেয়েছি। দারুন লেগেছে পিঠাগুলোর স্বাধ।

লুবনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, আমিসহ আমার কয়েকজন বন্ধুরা মিলে বদলগাছী থেকে এসেছি। আগে থেকেই জানতাম পিঠা উৎসব হবে। অনেক রকমের পিঠা। বেশ কয়েকটি পিঠা খেয়েছি। দারুন লেগেছে। সবমিলে আয়োজনটি অনেক সুন্দর।

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজিনগর ইউননিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্যেশ্য ছিল, বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্য্য।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, কালের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের গ্রামীন সংস্কৃতিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেকেই পিঠা বাজার থেকে কিনে এনে খায়। এতে কোনো আনন্দ- উৎসাহ থাকে না। একসময় পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় ছোট- বড় সকলেই পিঠা খাওয়ার আনন্দে মেতে উ তো। কিন্তু এখন তা আর চোখে পড়েনা। ব্যস্তময় জীবনের গর্ভে তা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছরের এই সময়ে মেলা বসানো হয় বর্ণিল এই আয়োজনো। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত নতুন প্রজন্মের কাছে বিভিন্ন প্রজাতির গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন।

উপজেলা প্রসাশন সূত্রে জানা যায়, পিঠা মেলার পাশাপাশি তিনদিনব্যাপী সন্ধ্যায় ত্রিশূল সমাজকল্যান সংস্থার শিল্পী, আমরা কজন শিল্পগোষ্টি, বগুড়ার কৌতুক অভিনেতাদের পরিবেশনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর গম্ভীরা, নিয়ামতপুর শিল্পকলা একাডেমী ও বরেণ্য কন্ঠশিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশ করা হবে।