ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ১নং বড়াইল ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুলের দফতরীকে আটক করা হয়েছে

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ , ১৫ মার্চ ২০২০, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 years আগে

বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ১নং বড়াইল ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড বড়াইল গ্রাম থেকে অভিযুক্ত রবিউল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বড়াইল উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের ওপর পড়ে থাকা পাতা কুড়াচ্ছিল ওই কিশোরী। তখন ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী রবিউল্লাহ বিদ্যালয়ের ভিতরের পড়ে থাকা পাতা নিয়ে যেতে বলে। কিশোরীটি ভিতরে যেতেই তার মুখে ওড়না পেঁচিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই দফতরী।

নির্যাতিতার মা পেয়ারা বেগম জানান, আমার মেয়ে একটু সহজ সরল। নির্যাতনের পর আউলা ঝাউলা চুল নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে আমার কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। আমরা গরীব সে কারণে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে প্রথমে কিছু বলিনি। পরদিন রাত ২টার সময় রবিউলের মা স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত মিয়াকে নিয়ে এই ঘটনার জন্য আমার কাছে মাফ চাইতে আসলে আমি তাকে ফিরিয়ে দেই। ঘটনার দুই দিন পর মেয়ে অসুস্থ হয়ে গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে বড়াইল গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের লিয়াকত মেম্বার ও জলিল মেম্বার বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য সময় নিয়েও কোনো সমাধান দেয়নি। এ ঘটনা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু বড়াইল উত্তরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের দফতরীর প্রতি কোন ব্যবস্থা নেয় নি। আমরা গরীব বলে কেউ এ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা পেয়ারা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করার পরই বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রবিউল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নবীনগর থানার এস আই জসিমউদ্দিন বলেন, বুধবার রাতে অভিযোগ জানার পরপরই ওসি স্যারের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে রাত ২টার দিকে বড়াইল গ্রাম থেকে অভিযুক্ত রবিউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে ও আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন