রাজধানী ঢাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক করে তুলতে আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছে নতুন ট্রেন সার্ভিস মহানগর এক্সপ্রেস। এতদিন ধরে ট্রেনটি শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও ঢাকার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করলেও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এর যাত্রাপথ সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনীসহ মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা কোনো ধরনের অতিরিক্ত ঝামেলা ছাড়াই খুব সহজেই এক ট্রেনে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই যাত্রাপথ সংযোজনের ফলে পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। বিশেষ করে সড়ক পথের যানজট এড়িয়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের জন্য ট্রেন যাত্রীদের সবসময়ই প্রথম পছন্দ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করার কাজ চলছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের যোগাযোগ খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছিল সাধারণ মানুষ। সে সময় মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলেও সাধারণ যাত্রীদের সেবার মান বাড়েনি। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রেল খাতের বরাদ্দ লুটপাটের কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ কিংবা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররা বিভিন্ন রুটে চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতো।
তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি সেক্টরে সুশাসন ও জনসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ের এই নতুন রুট চালুর ফলে ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ভ্রমণপিপাসুরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে এবং নিরাপদে কক্সবাজার যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই ট্রেনটি চালুর মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্প আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে রেলওয়ে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। ট্রেনটির শিডিউল, টিকিট বুকিং এবং ভাড়ার তালিকা ইতোমধ্যে রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনেও বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ জহির রায়হান
প্রধান কার্যালয়ঃ ১০৭ মতিঝিল বা/এ, ৯ম তলা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ 01713-733969, 01924-665561, ইমেইলঃ news@kalerbiborton.com
© কালের বিবর্তন ২০১৯ - ২০২৪ সর্বসত্ব সংরক্ষিত